টিডিএন বাংলা ডেস্ক : লোকসভা ভোটের জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে তৃণমূলের মধ‍্যে। কিন্তু ভোটের আগেই তৃণমূলের মধ্যে বড়সড় ভাঙন দেখা দিল। আজই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন ব্যারাকপুর লোকসভায় প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং।

আজ দুপুর একটায় দিল্লিতে তাঁর গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরেই দলবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবুও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের খাতিরেই একটা বাধোবাধো ভাব ছিল। তাই, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখে নিতে চাইছিলেন। আশায় ছিলেন, এই সম্পর্কের খাতিরেই তাঁকে ব্যারাকপুরে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথবা, দলনেত্রীর থেকে ভালো কিছু ‘উপহার’ পাবেন। ভেবেছিলেন, যেমনভাবে প্রথমে নাম না-থাকলেও ব্রিগেডের সভার দিন, তাঁর নাম অতিথি আপ্যায়নকারীর তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এবারও তেমনই কিছু ঘটবে। সেই কারণেই গণমাধ্যমের সামনে বলেছেন, ‘রাজনীতি মানেই সমঝোতা। সম্মান-অসম্মান বলে কিছু নেই।’

কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি। উলটে, কার্যত সবার সামনে পিসির কাছে ‘অপমানিত’ হয়ে অভিষেক দু’দিন ধরে কার্যত থম মেরে গিয়েছেন। তবুও অর্জুন আশায় ছিলেন। হয়তো, কিছু একটা হবে। যখন তৃণমূলের কর্মীরা রাজ্যজুড়ে মার খাচ্ছেন, হেরে গিয়েছেন তাবড় নেতারা, সেই সময় একজন বিধায়ক হিসেবে তিনিই বিধানসভায় তৃণমূলের পতাকা তুলে ধরেছেন। সেই সব মাথায় রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্ত, বুধবারও তেমন কিছু হল না। উলটে, কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে তৃণমূল সুপ্রিমো যা বললেন, তাতে তাঁর সেই প্রত্যাশায় মাটি চাপা পড়ে যায়। তার আগে নবান্নে ডেকে বুঝিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। গতবারের মতো এবারও দীনেশ ত্রিবেদীকে জেতানোর ভার দেন।

অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অর্জুন সিং। বোঝাতে চেয়েছিলেন, তাঁকে ছাড়া দীনেশ ত্রিবেদীর ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের কাউন্সিলর হওয়ারও ক্ষমতা নেই। কিন্তু, কথা শোনেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। উলটে, বুধবার লোকসভার প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের যা বললেন, তা প্রকাশ্যে অর্জুন সিংয়ের গালে হাত দেওয়ার চেয়ে কম নয়। মমতা পরিষ্কার বলেন, ‘দু’একজনের প্রার্থী হওয়ার লোভ ছিল। চলে গেলে ভালোই হয়।’ এর পর আর দেরি করার অর্থই ছিল আত্মহত্যা। অর্জুন সিং-ও দেরি করেননি। কথা সেরে নেন বিজেপি নেতাদের সঙ্গে। প্রতিশ্রুতিমতো ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছেন দিল্লিতে।