নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: ‘শত নাস্তিক হলেও আমি ওদের চোখে মুসলমান’ বলে আবার বিতর্কিত মন্তব্য করলেন তসলিমা নাসরিন। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত এই লেখিকার বিরুদ্ধে আগেও সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে থেকেছেন। তসলিমার বিরুদ্ধে ‘অশ্লীলতা’,’অভব্য’ বাক্য লেখার অভিযোগ উঠেছিল আগেই। ভদ্র সমাজের কাছে তিনি তেমন লেখক নন। তবে ধর্মের বিরুদ্ধে ও বিভিন্ন ব্যাক্তিকে আক্রমণ করে নিজেকে বারবার প্রচারের আলোয় এনেছেন তিনি।

বাংলার কবি শ্রীজাতর ওপর আসামের শিলচরে আক্রমণ হয়েছে। নাগরিক সমাজ তার প্রতিবাদ করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী খোঁজ নিয়েছেন। এই অবস্থায় তসলিমা নাসরিন কবি শ্রীজাত ও কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। আগের মতো সেই নিজের কথা বলে যাচ্ছেন।

তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে লিখেছেন, “শ্রীজাত নিজের বাক স্বাধীনতা চান, কিন্তু অন্যের বাক স্বাধীনতা কি চান? আমার বাক স্বাধীনতা? তাঁর রাজ্যে যখন আমার বাক স্বাধীনতা ভেঙ্গে চুরমার হয়েছিল, তখন শ্রীজাত তো নয়ই, বাক স্বাধীনতা নিয়ে যারা ভীষণ লাফায়, তাদের প্রায় কাউকেই মুখ খুলতে দেখা যায়নি। কবে যেন শ্রীজাত কোথায় বলেছেনও শুনেছি, কলকাতায় আমার না যাওয়াই উচিত। আমার চলাফেরার অধিকারও নেই। টাইমস অব ইণ্ডিয়া থেকে টাইমস লিট ফেস্টে আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল গত নভেম্বরে। শেষের দিকে ওরা চুপচাপ জানিয়ে দিয়েছে কলকাতায় আমাকে নেওয়া সম্ভব নয়। ওরা হয়তো ভেবেছিল, সিপিএম তো অনেকদিন গত হয়েছে, হয়তো নতুন সরকার পুরোনো সরকারের ভুল ত্রুটি শুধরে নিয়েছে”।

আরও বিতর্কিত খবর পড়ুন: অমানবিক-অনৈতিক কাজে যুক্ত ছিলেন মাদার তেরেসা, ফের বিতর্কিত মন্তব্য তসলিমা নাসরিনের

নিজ দেশে বিতাড়িত লেখিকা তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, “অনেকে বলে বিজেপি আমার পক্ষে, যেহেতু বিজেপি মুসলিম কট্টরপন্থীদের বিপক্ষে। ওদের সরল অংকটা এরকম, যেহেতু মুসলিম কট্টরপন্থীরা আমাকে মেরে ফেলতে চায়, গত পঁচিশ বছর যাবত চাইছে, আর যেহেতু বিজেপি মুসলিম কট্টরপন্থীদের বিপক্ষে, তাই বিজেপি আমার পক্ষে। ওই সেই পুরোনো প্রবাদ, শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু। সময় থাকলে টুইটারের মন্তব্য কলাম কেউ ঘুরে আসতে পারেন, ওখানে হিন্দু কট্টরপন্থীরা আমাকে লক্ষ করে প্রতিদিনই তাদের ঘৃণা ছুঁড়ছে, আমাকে ভারত ছাড়ার জন্য বলছে, যেন বাংলাদেশ চলে যাই, যেন পাকিস্তানে বা সৌদি আরবে চলে যাই। । ওরা জানে আমি নাস্তিক, আমি ইসলাম মানি না, কিন্তু আমি অন্য কোনও ধর্মই যে মানি না, এমনকী হিন্দু ধর্মও নয়, তার ওপর হিন্দুর নারী বিরোধী কুসংস্কার নিয়ে প্রায়ই সরব হই, তা ওদের মোটেও পছন্দ নয়। তাই তারা চায় না, আমি ভারতে থাকি”।

তিনি আরও লিখেছেন,”আমার ওপর আক্রমণ হলে, আমাকে রাজ্য থেকে, এমনকী ভারত থেকে তাড়ালেও কেন প্রগতিশীল বলে খ্যাত শহরেও কোনও প্রতিবাদ হয় না, যে শহরটির জন্য আমি ইউরোপের বাস ত্যাগ করে চলে এসেছিলাম ? এই প্রশ্নটির আমি অনেকদিন কোনও উত্তর পাইনি। আমার এখন মনে হয়, কলকাতার হাতে গোনা কিছু মানুষ ছাড়া অশিক্ষিত শিক্ষিত, মূর্খ বুদ্ধিমান, অলেখক লেখক, মুসলমান হিন্দু , আস্তিক নাস্তিক বিশ্বাস করে,আমি অনাগরিক, সুতরাং আমার অত বাক স্বাধীনতা থাকার দরকার নেই, ভারত জায়গা দিয়েছে, তাতেই আমার খুশি হয়ে ভারতের গুণগান গাওয়া উচিত, দালাই লামা যেমন গান। আমার (রিফিউজি) মুখে অত এই চাই সেই চাই মানায় না। অত নারী স্বাধীনতা নারী স্বাধীনতা করছো কেন, মুসলমান মেয়েদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছো কর, হিন্দু মেয়েরা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে, ওদের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করো না। ও তোমার কাজ নয়, অতিথি অতিথির মতো থাকো। হিন্দু মেয়েদের স্বাধীনতা নিয়ে যদি সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে হিন্দুরা করবে, তুমি কে হে মুসলমান হয়ে আমাদের জন্য কথা বলতে এসেছো? নাস্তিক বানাতে চাও, মুসলমানদের বানাও। হিন্দু ধর্ম অনেক উদার, এই ধর্ম প্রো উইমেন, দেখ না কতো দেবী পুজো করি আমরা! কলকাতায় কেন থাকতেই হবে তোমাকে, কলকাতায় তুমি জন্মেছো? যেখানে জন্মেছো সেখানে যাওয়ার চেষ্টা কর। তাড়িয়ে দিয়েছে, তাড়িয়ে দিয়েছে, তাই বলে অত অভিযোগ করতে হবে কেন? দেশে তো আশ্রয় দিয়েছি, এটাই কি বেশি নয়? আবার বক বক কেন? অনাগরিকের বক বক নাগরিকদের সয় না, এমনকী প্রগতিশীল বলে খ্যাত নাগরিকদেরও নয়”।

আরও পড়ুন: ভারতে মুসলিমদের মারধর করে দেশপ্রেম শেখানো হয়, উল্টো সুর তসলিমা নাসরিনের

এর পরেই তসলিমা লেখেন, “শত নাস্তিক হলেও আমি ওদের চোখে মুসলমান। খাতায় রিফুইজি নয় , রেসিডেন্ট স্টেটাস থাকলেও আমি ওদের চোখে রিফিউজি। সুইডেনের নাগরিক হলেও আমি ওদের চোখে বাংলাদেশি (তুচ্ছার্থে)। আমি অতিথি নই, নিজ খরচে থাকলেও, বছর বছর ট্যাক্স দিলেও ওদের চোখে আমি অতিথি। অতিথিদের ইন্টারনাল বিষয়ে নাক গলাতে হয় না, সুতরাং আমারও নাক গলানো চলবে না”।

তসলিমা বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে লিখেছেন, “শ্রীজাত’র ওপর কী হয়েছে? আমার ওপর তার চেয়ে লক্ষ গুণ বেশি অত্যাচার হয়নি?”

আসলে দেশ থেকে বহিষ্কৃত, বিতর্কিত তসলিমা সব সময় চান,সবাই তাঁর পক্ষ নিয়ে কথা বলুক আর তিনি ব্যাক্তি আক্রমণ করেই যাবেন। কিন্তু ঢাকা থেকে কলকাতা, পৃথিবীর কোনও সভ্য মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। আর এতেই রেগে লাল ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশি লেখিকা।