নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: এনআরসির প্রতিবাদে উত্তর কলকাতার সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় পর্যন্ত মিছিল করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলে পা মেলালেন দলের নেতা ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তনু সেন, মন্ত্রী শশী পাঁজা, অরূপ বিশ্বাস সহ অন্যান্য তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব। বিকেল তিনটে নাগাদ সিঁথির মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়। এক কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে এসে শেষ হয় মিছিল। এই যাত্রাপথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়ে এবং তার প্রতিবাদ কে সমর্থন জানিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন কয়েক হাজার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থক।

চিড়িয়ামোড়, পাইকপাড়া সহ একাধিক জায়গায় রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। কথা বলেন তাদের সঙ্গে। শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে পৌঁছে বক্তব্য রাখার সময় কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, আর একটা বঙ্গ ভঙ্গ বা দেশ ভাগের চেষ্টা করবেন না। আজ যদি মহারাষ্ট্রে গিয়ে বলা হয় হিন্দি ভাষার মানুষ এখান থেকে যাও। তাহলে কি হবে। বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না। আমরা দেশকে রক্ষা করার জন্য তৈরি আছি। বাংলায় দুই কোটি মানুষকে বাদ দেওয়ার কথা বলায় বিজেপির এই দাবিকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুটো মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখুক। বাংলার মানুষের মুখ বন্ধ করা সহজ নয়। এজেন্সি দিয়ে মুখ বন্ধ করবে। কিন্তু মানুষের লড়াই দেখোনি। মানুষ এর প্রতিবাদ দেখাবে বলেই জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপি নেতাদের বুড়ো খোকা বলে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বুড়ো খোকারা দেশ ভাগ করলে আন্দোলন এর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে হবে। সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। অসমের প্রসঙ্গ সামনে তুলে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, অনেকে সব কাগজ জমা দিয়েও নিজেদের নাগরিক প্রমাণ করতে পারেনি। স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও এই ভাবে পরাধীন হয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের স্লোগান কারোর থেকে ধার করে নিইনি। যারা ধার করে বলে জয় হিন্দ বলতে হবে। তারা আগে বাংলার মানুষকে জিজ্ঞাসা করুক। এখান থেকে বন্দে মাতরম স্লোগানের সূচনা হয়েছিল। বাংলার সংস্কৃতি মানে দেশের সংস্কৃতি। বাংলাকে অপমান মানে দেশকে অপমান।

বাংলার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোন দল করেন ভুলে যান। বিজেপিকে রুখতে পারে একমাত্র তৃণমূল। টাকা আর এজেন্সি নিয়ে চলে বিজেপি। তৃণমূল মানুষের দল। পাশাপাশি তিনি হুঁশি়ারি দিয়ে বলেন, আমি যত দিন বেঁচে আছি বাংলায় এনআরসি করার ক্ষমতা কারো নেই।কেন্দ্রের সমালোচনা করে মমতা বলেন, আমি অনেক আগেই বলেছিলাম। ব্যাঙ্কে রাখা টাকা পাবেন কিনা তাই নিয়ে সন্দেহ। কেউ গাড়ি কিনছে না। সারা দেশ জুড়ে হাহাকার চলছে। দেশ জুড়ে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। দেশের অবস্থা খুব খারাপ। রেল, এয়ার ইন্ডিয়া বেসরকারিকরণ করে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।