টিডিএন বাংলা ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ভাঙড়ের তিন প্রার্থী। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার এই মনোনয়ন গ্রহণ করেছেন। ভাঙড়ে সন্ত্রাসের কারণেই অধিকাংশ আসনে বিরোধী দলের প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। এই অবস্থায় এদিনই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন খামারআইট গ্রামের তিন প্রতিনিধি। এঁদের সঙ্গে ছিলেন শর্মিষ্ঠা চৌধুরি এবং অনুরাধা পূততুণ্ড। খবর গণশক্তির।
ওই খবরে আরও বলা হয়েছে,খামারআইট গ্রামের তিন পঞ্চায়েত প্রার্থী আদালতে তাঁদের আবেদনে জানান, ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসের কারণে তাঁরা পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছেন না। বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা এবং পুলিশ যৌথভাবে মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দিচ্ছে। শাসকদলের বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে গেলে আক্রান্ত হচ্ছেন, রক্তাক্ত হচ্ছেন।’ কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীদের কর্মবিরতি থাকায় আবেদনকারী সুলতান হোসেম মোল্লা, আজিজুল মোল্লা, ছালিয়ারা বিবি মোল্লা এবং শর্মিষ্ঠা চৌধুরি নিজেরাই এজলাসে সওয়াল করেন। শুনানি গ্রহণ করে বিচারপতি শেখর বি সরাফ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, নির্বাচন অবাধ করার দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের। পঞ্চায়েত আইন ২০০৩ উল্লেখ করে বিচারপতি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সমস্ত প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দিতে হবে। যে কোনও রাজনৈতিক দল, কোনও প্রার্থী এমনকী কোনও নির্দল প্রার্থীর কোনও অভিযোগ থাকলে নির্বাচনী পদ্ধতির মধ্যে দিয়েই তার সমাধানের ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনারকে করতে হবে। একইসঙ্গে বিচারপতি নির্দেশ দেন সুলতান হোসেন মোল্লা, আজিজুল মোল্লা এবং ছালিয়ারা বিবি মোল্লার মনোনয়নপত্র রাজ্য নির্বাচন কমিশনারকে গ্রহণ করতে হবে।

কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পৌঁছানোর পরই ভাঙড়ের তিন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়ন সেখানে জমা দিয়েছেন। এই তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজন পঞ্চায়েত সমিতির এবং দুজন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থী রয়েছেন।

এদিকে এদিনই কলকাতা হাইকোর্টে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ ব্যানার্জির এজলাসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্যের পুলিশসুপারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে নতুন করে মামলা দায়ের করেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরি। তিনি নিজেই ডিভিসন বেঞ্চকে জানান, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ প্রশাসন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য কোনও সাহায্য করছে না। শাসকদল এবং পুলিশ যৌথভাবে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দিচ্ছে। এমনকী মহিলা প্রার্থীদেরও মারধর করা হচ্ছে। অধীর চৌধুরির এই শুনানি গ্রহণ করে বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ‘আপনি আদালত অবমাননার আবেদন জানান। সেই আবেদন আদালত গ্রহণ করবে এবং শুনানির জন্য সময় ধার্য করবে।’ চৌধুরি এদিন জানিয়েছেন, মঙ্গলবারই তিনি আদালত অবমাননার আবেদন করবেন। আবেদনের শুনানি মঙ্গলবারই হবে।

গত ৬ই এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্ট তার নির্দেশে বলেছিল, পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়নপত্র নির্বিঘ্নে জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশের ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকে। এব্যাপারে জেলায় জেলায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে নিশ্চিত নিরাপত্তা দিতে পুলিশসুপারদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে হবে। গোটা পঞ্চায়েত ভোটে নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা হলফনামা আকারে জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী ১৬ই এপ্রিলের মধ্যে এই হলফনামা জমা দিতে বলেছে আদালত। গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া এক মামলায় এই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে অবজ্ঞা করেই শাসকদলকে তাদের সন্ত্রাস চালাতে নীরব অনুমতি দিয়ে যাচ্ছে। এখনও গোটা রাজ্যে শাসকদলের সমর্থকরা সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে বিরোধীদলের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দিচ্ছে। একতরফা মনোনয়ন জমা দিচ্ছে শাসকদলের প্রার্থীরা। ফলে মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সোমবার একথা পুনরায় আদালতে উল্লেখ করেন অধীর চৌধুরি। এই শুনানির পরই ডিভিসন বেঞ্চ আদালত অবমাননার মামলার আবেদন জানানোর পরামর্শ দেয়। পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে সোমবার আরও একটি জনস্বার্থের মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে । সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বি জে পি-র সংগঠন সরকারি কর্মচারী পরিষদ সোমবার এই জনস্বার্থের মামলা দায়ের করে। তাদের আবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্য পুলিশ পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্বে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। শাসকদলের সমর্থকরা ছাড়া অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা নিরাপদে ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য ও নিরাপত্তা ছাড়া ভোটপর্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া সরকারি কর্মচারী পরিষদের কোনও সদস্য ভোটগ্রহণের কাছে অংশগ্রহণ করবেন না। এব্যাপারে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।