টিডিএন বাংলা ডেস্ক: উৎসবের শুরুতেই মিলেছিল ১০হাজার টাকা। উৎসব শেষে আবার টাকা। এবার আরও ৫০হাজার। এক মাসের ফারাকে জনগণের টাকায় ৬০হাজার করে ঢুকল পুজো কমিটির ফান্ডে।

রাজ্যে চলছে উৎসব। সঙ্গে চলছে উৎসবকে কেন্দ্র করে টাকা ওড়ানো। এক দিকে জঙ্গলমহলে মরছেন গরিব মানুষ। সরকার ব্যস্ত উৎসবে। এদিনই যেমন কলকাতার ৯১টি ক্লাব পেল ৫০হাজার টাকা। সৌজন্য কলকাতা কর্পোরেশনের উদ্যোগে হওয়া ‘কলকাতা শ্রী’ প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানের খরচ বাদ দিয়ে সব ক্লাবকে দেওয়া মোট পুরস্কার মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।

গতকালই নবান্ন থেকে ‘বিশ্ব বাংলা’ শারদ সম্মানের নামে কলকাতার ক্লাবগুলিকে একাধিক পুরস্কার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানেই মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘উৎসবকে পাল্লা দেবে আরো একটা বড় উৎসব।’ ফলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে উৎসবে ভেসে ৫০হাজার টাকা করে ক্লাবকে বিলোলেন কলকাতার মেয়র শোভন চ্যাটার্জি।

রাজ্যের এক প্রান্তে অনাহারের জেরে মৃত্যু হচ্ছে একের পর এক মানুষের, অন্যদিকে একের পর এক উৎসবে কোটি কোটি খরচ করছে রাজ্যের সরকার। কলকাতা শহরের চিত্রটাও একই। প্রায় কোটি টাকা খরচে বৃহস্পতিবার বিকালে ‘কলকাতা শ্রী’ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয় মোহরকুঞ্জে। তবে কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে টাকার অভাবে বস্তি উন্নয়নের নানা কাজ থমকে মাসের পর মাস। উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শহরের গরিব বস্তিবাসী মানুষজন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোহরকুঞ্জে আয়োজন ছিল বিরাট। ঝলমলে আলোয় ও সুন্দর সাজে ঘিরে ফেলা হয় অনুষ্ঠান মঞ্চসহ আশপাশ। শাসক প্রভাবিত ক্লাবের কর্মী সংগঠকদের জন্য সীমাহীন আনন্দের আয়োজন করেছিল কলকাতা কর্পোরেশন। এই মঞ্চ থেকেই মেয়র শোভন চ্যাটার্জির উপস্থিতিতে শহরের ৯১টি ক্লাবকে পুরস্কার মূল্য হিসাবে তুলে দেওয়া হয় ৪৫লক্ষ ৫০হাজার টাকা। মাসিক অধিবেশন থেকে অন্যান্য অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতেই খোদ মেয়র শোভন চ্যাটার্জি দাবি করেন, কর্পোরেশনের আর্থিক সংকট। প্রশ্ন উঠছে সেই অবস্থায় জনগণের দেওয়া করের টাকা যা কর্পোরেশনের কোষাগারে জমা পড়ে তা থেকে এভাবে উৎসবের নামে কেন টাকা বিলানো?

কলকাতা কর্পোরেশন সূত্রে খবর, বস্তি বিভাগের একাধিক ফাইল অনুমোদনের পরেও কাজ এগচ্ছে না টাকার অভাবে। ৯ নম্বর বরোর প্রতি ওয়ার্ডে বস্তির জন্য আর্থিক বর্ষের শুরুতে ৭লক্ষ ও পরে মাত্র ১৮লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর মে মাস থেকে কার্যত কোনও টাকা না পাওয়াতে এই বরোর একাধিক ওয়ার্ডেই বস্তি এলাকায় উন্নয়নের কাজ থমকে আছে। ৭৫নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিলকিশ বেগমের দাবি, তাঁর ওয়ার্ডে মুনশিগঞ্জ, মিত্র ঘোষ স্ট্রিট, খালাসিটোলা-সহ একাধিক বস্তি এলাকায় শৌচালয় মেরামত, রাস্তা মেরামত, আলোর রক্ষণাবেক্ষণের মতো একাধিক কাজ থমকে টাকা না আসায়। বেহালার ১২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রত্না রায়মজুমদার জানান, ওয়ার্ডে মডেল বস্তি হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো সমস্ত ফাইল পাঠানো হয়। সেই ফাইল ফেরত আসে। নতুন করে পাঠাতে হচ্ছে। আসলে মডেল গরিব বস্তিবাসী মানুষের মন পেতে মডেল বস্তির ঘোষণা করেলেও সেটা তৈরির প্রয়োজনীয় টাকা নেই কর্তৃপক্ষের। তাই নানাভাবে টালবাহানা করছে।

এদিন ‘কলকাতা শ্রী’ অনুষ্ঠানে মেয়র শোভন চ্যাটার্জি বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি করেন, ক্লাবগুলিকে যে ১০হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি তা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় কখনো হয়নি এমন। কর্পোরেশনের বিরোধী দলনেত্রী রত্না রায়মজুদার জানান, উৎসবের নামে জনগণের টাকা কিছু ক্লাবকে পাইয়ে দেওয়ার আগে শহরের নাগরিক পরিষেবা যাতে না থমকে যায় টাকার অভাবে তা নজর দিন মেয়র। গরিব বস্তিবাসীদের বঞ্চিত করছেন তিনি। অবিলম্বে বস্তি উন্নয়নে টাকা বরাদ্দ করুন। গণশক্তি