টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দলিত শিক্ষিকাকে নিগ্ৰহের ঘটনার প্রতিবাদে ইস্তফার হিড়িক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন বিভাগীয় প্রধান ও তিনজন সেন্টার অধিকর্তা দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এঁরা প্রত‍্যেকেই তাঁদের ইস্তফা পত্র উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছেন।

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকা বেশ কয়েকদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নিগ্ৰহের শিকার হয়েছেন। টিএমসিপি ও শাষক ঘনিষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সরাসরি এই নিগ্ৰহের অভিযুক্ত। শাসকের কাছে নিগ্ৰহের প্রতিবাদে সোমবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগ, অর্থনীতি বিভাগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সংস্কৃত বিভাগের প্রধানরা ইস্তফা দেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ চর্চা কেন্দ্র, ড. বি আর আম্বেদকর চর্চা কেন্দ্র ও স্কুল অব ল‍্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারের প্রধানরা ইস্তফা দিয়েছেন। এছাড়াও টিএমসিপি ও কর্মচারীদের দ্বারা বিভিন্ন সময়ের লাঞ্চিত, অপমানিত ও নিগৃহীত হওয়া একজন শিক্ষিকা ও দু’জন শিক্ষক উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এরপর রবীন্দ্রমূর্তির পাদদেশে প্রতীকী অবস্থানও করেন আক্রান্ত সহ অন‍্যান‍্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

উল্লেখ্য, ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষিকারা তৃণমূলের কর্মীদের দ্বারা নিগৃহীত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার সঙ্গে যে ধরনের লাঞ্চনার ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এভাবে একের পর এক নিগ্ৰহের ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার শিক্ষক-শিক্ষিকারা মিছিল করেন এবং উপাচার্যের ঘরের সামনে অবস্থান করেন। কেন শিক্ষকরা নিগ্ৰহের প্রতিবাদে উপাচার্যের কাছে গিয়েছিলেন, সেই অজুহাতে পরের দিন অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ঘরের সামনে তারস্বরে স্লোগান দিয়ে ক‍্যাম্পাসকে উত‍্যক্ত টিএমসিপি ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ কর্মচারীরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশ‍্য করে অশ্লীল ভাষাও ব‍্যবহার করা হয়। পরীক্ষা বন্ধ রেখে কিছু ছাত্র সেদিন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ঘরের সামনে অসভ‍্যতা করেছে দেখেও বিশ্ববিদ্যাল কতৃপক্ষ কোনও ব‍্যবস্থা নেয়নি।

তারপরে গত দু’দিন ধরে ক‍্যাম্পাসের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য শুনতে হয়েছে। দায়িত্ব সামলানো অসম্ভব হয়ে উঠেছিল বিভাগীয় প্রধানদের। তাই বাধ্য হয়ে এদিন, চারজন বিভাগীয় প্রধান ও তিনজন সেন্টার অধিকর্তা ইস্তফা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিগ্ৰহের ঘটনার প্রতিবাদে ওয়েবকুটার সাধারণ সম্পাদক কেশব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিগ্ৰহের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিক ঘটনা ঘটেছে। শাসক দলের লোকেরা ওই ক‍্যাম্পাসে বিরোধী কাউকে কথা বলতে দেয় না। যাঁরাই প্রতিবাদ করবেন তাঁদের ওপর নানাভাবে আক্রমণ নামিয়ে আনার রীতি হয়ে ওঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। শিক্ষক নিগ্ৰহের ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক ব‍্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা।