আক্রান্ত হওয়ার পর মমতা ঠাকুরের মতুয়াদের সঙ্গে কথা বলছেন সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: দলিত-মতুয়া নেতা সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসের উপর হামলার নিন্দা জানালেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও নাগরিক সমাজের মানুষ। বুধবার ঠাকুর নগরে এনআরসি বিরোধী সভা করতে গিয়ে বিজেপি ও আরএসএস বাহিনীর হাতে তিনি আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে সুকৃতি বাবুকে বাঁচাতে গেলে হেনস্থা করা হয় প্রাক্তন সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের মমতা বালা ঠাকুরকে। সাম্প্রদায়িক শক্তির দ্বারা সুকৃতি বাবু আক্রান্ত হওয়ার খবর আসতেই ক্ষোভ জানান সমাজের বিশিষ্টজনেরা। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর রাজ্য সহ সভাপতি রঞ্জিত সূর বিবৃতি দিয়ে জানান,সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন কোনো বড় পার্টি শুরু করেনি। দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া সে আন্দলোনে দেশের জমি অধিগ্রহণ আইন পাল্টাতে বাধ্য হয়েছিল শাসকেরা। এনআরসি ক্যাব বিরোধী আন্দলোনও কোন বড় পার্টি করবে না। কারণ দেশি-বিদেশি বৃহৎ পুঁজি, আন্তর্জাতিক চক্রান্ত আছে এসবের পিছনে। বড় পার্টিগুলো তাঁদের স্বার্থই দেখবে। ছোট ছোট সংগঠনগুলোকেই তাই এনআরসি ক্যাব রোখার দায়িত্ব নিতে হবে। পরে কোন বড় পার্টি সে আন্দোলন হয়ত হাইজ্যাক করবে- সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের মত। কিন্তু সে ভয়ে ঐতিহাসিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এগিয়ে এসে এনআরসি ক্যাবকে আটকাতেই হবে। বিজেপি মতুয়া-মুসলিম জোটের মিটিংয়ে হামলা করেছে। বোঝাই যাচ্ছে ওরা ভয় পেয়েছে। ওরা ভয় পাচ্ছে প্রবল এনআরসি ক্যাব বিরোধী হাওয়াকে, দলিত-মুসলিম ঐক্যকে। ওদের ওপর চাপ বাড়ানোর এটাই সময়।”
ওয়েলফেয়ার পার্টির ছাত্র যুব সংগঠন ফ্যাটারনিটি মুভমেন্টের রাজ্য সভাপতি আরাফাত আলি এক প্রেস বিবৃতিতে বলেন,’সাধারন মানুষ এনআরসি আতঙ্কে ভুগছে। সেই আতঙ্ক কাটানোর জন্য সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মতুয়াদের নিয়ে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রবীণ দলিত নেতা সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসকে নির্মমভাবে মারধর করে ,তার জামাকাপড় ছিঁড়ে দেয়।গণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী কায়দায় যেভাবে সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ হয়েছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এদিকে বিশিষ্ট চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র ঘোষ দস্তিদার বলেন,মমতা বালা ঠাকুর ও সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাসের ওপর বিজেপির হামলা নিন্দনীয়। কিন্তু এই আক্রমণে এটা পরিস্কার যে অমিত শাহ যতই হম্বিতম্বি করুক এনআরসি নিয়ে বিজেপি যথেষ্ট চাপে। নাগরিক সংশোধনী বিল যে হিন্দু মুসলিম বিভাজনের এক অস্ত্র মাত্র,কোন সম্প্রদায়ের নাগরিকদের কিছুমাত্র সুবিধে হবেনা তা সবাই ক্রমে ক্রমে বুঝতে পারবে তা বিলক্ষণ জানে বিজেপি।’