বাবা সাইকেল মেকানীক, মা বিড়ি শ্রমিক, মায়ের সাথে বিড়ি বেধে পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে স্কুলের সেরা খাদিজা খাতুন

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : বাড়ির পাশের বাজারে বাবার সাইকেল মেকানিক এর দোকান। মা বিড়ি শ্রমিক। মায়ের সাথে সকাল সন্ধ্যা নিয়মিত বিড়ি বেধে ও পাচ ওয়াক্ত নামাজ, নিয়মিত কুরান পড়ে মাধ্যমিকে চমকপ্রদ রেজাল্ট করে সকলের নজর কাড়লো মুর্শিদাবাদের খাদিজা খাতুন। টালির বাড়িতে বসে এহেন চমকপ্রদ ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সে। খাদিজার এই রেজাল্টে খুশি তার সহপাঠী, শিক্ষক থেকে শুরু করে গ্রামের বাসিন্দারা।

সামশেরগঞ্জের গোবিন্দপুরে সাইকেল মিস্ত্রি নামে খ্যাত আব্দুস সামাদের বড় মেয়ে খাদিজা। গরিবের সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। নিজের মেকানিকের টাকা ও স্ত্রীর বিড়ি বাধার টাকায় ছয় ছেলেমেয়ে কে নিয়ে কোনোরকমে দিন গুজরান করছেন তিনি। নিজেররা অশিক্ষিত হলেও ছেলেমেয়েদের শিক্ষার আঙিনায় পৌছে দিতে সদা ততপর আব্দুস সামাদ। মেধাবী মেয়ে খাদিজারও অদম্য জেদ পড়াশুনা করে ডাক্তার হওয়া।

তাই প্রতিদিন সকালে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে ও কুরান তেলাওয়ার করে কিছুক্ষণ বিড়ি বেধে গ্রামের কোচিং এ গিয়ে পড়াশুনা করে সে। দশটায় স্কুল গিয়ে আবার বাড়ি ফিরে নামাজ পড়ে মায়ের সাথে বিড়ি বাধতে বসতো খাদিজা। এভাবেই পারিবারিক দারিদ্রতাকে মাড়িয়ে জয়কৃষ্নপুর এবিএস বিদ্যাপীঠ থেকে ৬১৩ নং সংগ্রহ করেছে সে। তার স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়া। কিন্তু পারিবারিক এই অসহায়ত্বে পুরণ হবে কি তার আশা? উত্তর খুঁজছে খাদিজার পরিবার।
খাদিজার বাবার কথায়, গরিব মানুষ কিভাবে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা করাবো ভেবে পাচ্ছি না। মেধাবী মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনবেলায় একবেলা না খেয়েও দিন গুজরান করতে পিছপা হবেন না বলেও জানান তিনি।