টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কাটমানি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নড়েচড়ে বসেছেন। কাটমানি নিলে ফেরত দিতে হবে। দেলর নেতা কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কাটমানি ফেরত না দিলে কড়া ধারায় মামলা রুজুর হুমকি দিয়েছে প্রশাসন। এবার কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠল জেলে। এক জেল কর্মীর নাম করে সরাসরি কারা দপ্তরে ডিজি অরুণ কুমার গুপ্তাকে চিঠি দিয়েছেন বালুরঘাট সংশোধনাগারের কয়েকজন বাংলাদেশি বন্দি। বেনামি চিঠিতে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে ডিজি (কারা)-র অফিসে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ডিজি। এনিয়ে কারা কর্তারা মুখ খুলতে চাননি। বালুরঘাট সংশোধনাগারের সুপার দরজি ভুটিয়ার বক্তব্য জানা যায়নি। জেল কর্মীদের হাত করে বেআইনি পথে মোবাইল, মাদক পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ বহুদিনের। এবার বন্দিদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বেনামি চিঠি হলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কারা দপ্তর।

বালুরঘাট সংশোধনাগার সূত্রে খবর, সেখানে বেশ কয়েকজন সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বাংলাদেশি বন্দি রয়েছে। তাদের কেউ কেউ নাম না করে এই চিঠি দিয়েছে। জেল কর্মী কমল সরকারের নাম করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এক জেল আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্দির নামে আত্মীয় পরিজনরা টাকা জমা দিতে পারেন। একে বলে পার্সোনাল ক্যাশ। কোনও জিনিস প্রয়োজন হলে, ওই টাকা দিয়ে আধিকারিকরা বন্দিকে তা কিনে দেন। যেমন পেস্ট, সাবান, ওষুধ দরকার হলে বন্দি তা আবেদন করেন, মঞ্জুর হলে, বাজার ব্রাঞ্চ তা কিনে দেবে।

বন্দিদের অভিযোগ, বাজার ব্রাঞ্চের ওই কর্মী নির্দিষ্ট জিনিস অ্যাকচুয়াল দামের চেয়ে পাঁচগুণ দামে কেনেন। তবে সবমিলিয়ে কাটমানির অঙ্ক কত তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।

সংশোধনাগার সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ব্যক্তি যথেষ্ট প্রভাবশালী লোক। তাঁর প্রভাব এতটাই যে, মাস কয়েক আগে এআইজি (নর্থ) তাঁর বদলির নির্দেশ দিলেও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেত্রীর হস্তক্ষেপে তা বাতিল হয়ে যায়। বালুরঘাট থেকে মালদা জেলে বদলির জন্য তাঁকে রিলিজ করে দেওয়া হয়। নিজের জায়গায় তিনি ফিরে আসেন। উল্টে সুপারের বদলি হয়। কারা দপ্তর সূত্রে খবর এআইজি বা ডিআইজি পদমর্যাদার অফিসারকে তদন্তে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্ত জেল কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ জেলের ভেতরে! স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাই কারা দপ্তর নড়েচড়ে বসতে দেরি করেনি। দেখা যাক কাটমানি রোগ বিনাশ হয় কিনা।