সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : জী নিউজের তথাকথিত ইসলামিক অনুষ্ঠান ‘ফতেহ কা ফাতওয়া’ – র বিরুদ্ধে সরব হলেন টিপু সুলতান মসজিদের শাহী ইমাম নুরুর রহমান বরকতি। উক্ত ইসলামিক (!) অনুষ্ঠানে ইসলামকে বিকৃত করার পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের নবী ও রসুল সহ সাহাবীদেরও অপমান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তান থেকে বিতাড়িত তারেক ফাতেহ’র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দফায় দফায় আন্দোলন করেছে বেশ কয়েকটি ইসলামিক সংগঠন।

সেই আন্দোলনের ঢেউ এইবার আছড়ে পড়ল খাস কলকাতাতেও। আজ শুক্রবার জুম্মা নামাজের শেষে ধর্মতলায় টিপু সুলতান মসজিদের সামনে শত – শত ইসলাম প্রেমী মানুষদের নিয়ে আন্দোলনে নামেন শাহী ইমাম বরকতি।
এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জায়গার মানুষজন সহ বিভিন্ন এলাকার বেশকিছু গুনীজনও উপস্থিত হন। মৌলানা সাব্বির আজাদ ইসলাম বিদ্বেষী ফাতেহর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী বাক্য উচ্চারণ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে ২০ এপ্রিলের আল্টিমেটাম দেন। তিনি বলেন, আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে তারেক ফাতেহকে দেশ থেকে তাড়ানো না হলে এবং জি নিউজ নিষিদ্ধ না করা হলে আগামী ২১ এপ্রিল আমরা জোরদার আন্দোলনে নামব। তিনি আরো বলেন, “এদেশ কোনদিকে যাচ্ছে ? মুসলিমদের কবর নয়, দাহ করতে হবে ? এ কেমন গণতান্ত্রিক ভারত ? সাক্ষী মহারাজ সহ বিজেপির সব নেতাই দেশে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়াচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিন সভা চলার মাঝে মাঝেই বিজেপি
মুর্দাবাদ, আরএসএস মুর্দাবাদ, তারেক ফাতেহ হায় হায়, জী নিউজ বয়কট সহ নারায়ে তকবীর ইত্যাদি স্লোগান চলতে থাকে মসজিদ চত্বরে।
উপস্থিত কয়েক শ’ জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বরকতি মমতার সরকারের ভূয়সী প্রশংশা করে বলেন, “তারেক ফাতেহ কলকাতা আসতে চেয়েছিল। আমি মমতা দিদিকে বলে তার আসা বন্ধ করেছি। দিদি আমাকে বলে তুমি সত্য কথা বলো। আমার দলে এখন সব চোর। আমি মুসলিমদের জন্য টাকা দিই কিন্তু তারা ভাগ করে খেয়ে নেয়। এদিন তিনি তসলিমা প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “তারেক ফতেহকেও তসলীমা নাসরিনের মতোই দূর দূর করে ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।”
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হেনস্থা করে বরকতি বলেন, “গুজরাত দাঙ্গার খুনী হয়েছে প্রধানমন্ত্রী। তিনি ওয়াজীরে আজম নন তিনি
কাতিলে আজম।” শুধু তাই নয় এদিন মোদীকে ট্রাম্পের সঙ্গেও তুলনা করতে ছাড়েননি বরকতি।
মোদী পাগল তাকে পার্লামেন্টে না পাগলা গারদে দেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্ত্যব্য করেন।
বক্ত্যব্য রাখার সময়ই হঠাৎ বরকতি বলে ওঠেন “তারিক ফতেহর মাথা মুন্ডনে ৩০ লাখ ইনাম”। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনতা তারিক ফতেহর কুশপুত্তলিকায় ঝাপিয়ে পড়ে এবং তার পুতুলে জুতো, ঝাঁটা ও থুথু দিয়ে ধিক্কার জানাতে থাকে। শেষমেষ ক্ষিপ্ত জনতা তার কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে জালিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।
ইসলামের বিদ্বেষী তারেক ফতেহর বিরুদ্ধে এই আন্দোলন চলবে বলেও জানান উপস্থিত জনতা সহ নুরী বরকতি।