বিশেষ প্রতিবেদন, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : পঞ্চায়েত ভোটের আগে ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মমতা সরকার?  বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার এক বছর  অতিবাহিত হতে চললেও এখনও পর্যন্ত জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে জেলায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলেও লাগাতার আন্দোলনের জেরে অবশেষে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। কিন্তু ঘোষণায় সার! কবে বিশ্ববিদ্যালয় হবে জানে না মুর্শিদাবাদবাসী! সরকারের সদিচ্ছার অভাব দেখে এখন জেলাবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা কি শুধুমাত্র পঞ্চায়েত ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থেই করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার?

সরকারের সদিচ্চা নিয়ে মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত গ্রামের চায়ের দোকান থেকে মুড়ির দোকান, রাস্তাঘাট, বাজার সহ সর্বত্রই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। কান্দির এক ব্যবসায়ী সোলেমান শেখের প্রশ্ন, একবছর আগে শুনেছি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হলে আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুবিধা হবে। টিভিতে যখন মুখ্যমন্ত্রী অন্য জায়গায় শিক্ষা নিয়ে কথা বলছেন আমরা তখন  মুর্শিদাবাদের নাম ঘোষণা করবে এই আশায় টিভির দিকে তাকিয়ে থাকছি। কিন্তু এখনও কোনো খবরই পাওয়া যাচ্ছে না। ডোমকলের ফারুক আহমেদের কথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণার পরেই যেভাবে জেলাজুড়ে আনন্দের জোয়ার বয়েছিলো তা এখন ফিকে হয়ে গেছে। জমি সংক্রান্ত কমিটিও নাকি গঠন হয়েছিল, কিন্তু কোথায় সে কমিটি? কখন হবে বিশ্ববিদ্যালয়?

অন্যদিকে, জঙ্গিপুরের আনোয়ার হোসেন  লালবাগের দেলওয়ার হোসেন, তরুণ সিং, কৌশিক দাস, বহরমপুরের অভিজিৎ, সোহেলী চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম সকলের অভিযোগ, শুধুমাত্র পঞ্চায়েত ভোট ব্যাংকের স্বার্থেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাদের হুঁশিয়ারি অবিলম্বে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় না হলে আগামী লোকসভায় তৃণমূল কে চরম শিক্ষা দেবে জেলাবাসী।