নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, ফারাক্কা : সারা দেশ জুড়ে লোক সভা ভোটের জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি এরই ফাঁকে স্কুলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় দেখভালের জন্য ‘চাইল্ড ক্যাবিনেট’ নামে ছাত্র সংসদ গড়ছে নূর জাহানারা স্মৃতি হাই মাদ্রাসার খুদে পড়ুয়ারা। দুই হাজার উনিশ শিক্ষা বর্ষের- মন্ত্রীসভা মানে শিক্ষামন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পরিবেশ মন্ত্রী এবং ক্রীড়ামন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী গড়ার লক্ষ্যে আজ ১৫ ই মার্চ এই মাদ্রাসায় দেখাগেল ভোটের তোড়জোড়। অন্যান্য ভোটে মতো ভোটরলিস্ট প্রকাশ, নমিনেশন ফাইল, তার স্ক্রুটিনী, নমিনেশন প্রত্যাহার ও ভোটদান পর্ব সহ প্রিসাইডিং ও পোলিং ও পুলিশ এর ভূমিকায় ছিলো ছাত্র ও ছাত্রীরা। শিক্ষকরা তাদের ট্রেনিংসহ ভোটদানের এর সুব্যবস্থা করে।

এই প্রথম কোন মাদ্রাসা সরকারী নিয়ম মেনে শিশু সংসদ নির্বাচন করলো। তবে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহশিক্ষকদের মনোনয়নে গত বছর এই মাদ্রাসায় শিশু মন্ত্রীসভা গঠিত হয়েছিল। এবছর কিন্তু পড়ুয়ারা ভোটের মাধ্যমে মন্ত্রীসভা গড়তে চলেছে। আজ তার ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। গত ২২ শে ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ঘোষণা হয়। প্রার্থীর নাম ফোটো ও প্রতীক সহ ব্যালট পেপারে সরকারি নিয়ম মেনেই বিদ্যালয়ের খুদেরা ভোট দেয়। তবে আগামীকাল ডিজিটাল স্মার্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা হবে বলে জানা যায়।

গোটা মন্ত্রীসভার সভাপতি প্রধান শিক্ষক হলেও দেখভাল করার জন্য মহ পারভেজ নামে এক শিক্ষক কে নোডাল অফিসার বেছে নেন প্রধান শিক্ষক। প্রতি মাসেই ওই মন্ত্রীসভার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সেই শিক্ষক এবং সহযোগিতা করবেন আর এক শিক্ষক সুমন ব্যানার্জী। এই মন্ত্রী সভার ছটি পদ যা শিক্ষামন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী,স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পরিবেশ মন্ত্রী এবং ক্রীড়ামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী এই ছয় পদে মোট বারো জন প্রার্থী ভোটে দাঁড়ায় যার মধ্যে অর্ধেক ছাত্রী। প্রায় ৭৫%ভোট পরে। মোট ভোটের ৭০৫ জন। কয়েক বছর আগে এই মাদ্রাসার পড়ুয়া ছিল তেরো জন। তবে নিত্যদিন হাজিরা ও ভোটদানে মেয়েরাই এগিয়ে।

মূলতঃ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই রকম মন্ত্রীসভা তৈরি হলে পড়ুয়াদের আত্মসম্মান, আত্মবিশ্বাস, ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে ফলে স্কুলের সঙ্গে পড়ুয়াদের আত্মিক সম্পর্কও বাড়বে বলে মনে করছেন প্রধান শিক্ষক জানে আলম তিনি আরো বলেন বিশুদ্ধ পানীয় জল, পরিষ্কার শৌচালয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখাটা মাদ্রাসার মৌলিক কর্তব্য। যা কেবল শিক্ষক দের দিয়ে সম্ভব নয় সেটা শিক্ষক পড়ুয়া সকলকেই করতে হবে। এই বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরের যথেষ্ট সাহায্যও গাইড লাইনও আছে। প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা ও পরিবেশ মন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রী থাকবে এই মন্ত্রিসভায়। প্রত্যেক মন্ত্রীর পিছু আবার ছ’জন করে সহায়ক থাকাবে । স্কুলের কোথায় সমস্যা, তার কী ভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ‘রিপোর্ট’ করার কথা ওই মন্ত্রীসভার। রাজ্যের বহু স্কুলেই এই মন্ত্রিসভার অস্তিত্ব নেই। কোথাও থাকলেও তার কার্যকারিতা নেই বলেই চলে।

শিক্ষকা পায়েল মুখার্জির মত, পরিচ্ছন্নতা শেখানোর কাজে প্রধান শিক্ষকের অগ্রণী প্রচেষ্টা দেখে সেই কাজে সকলকেই উদ্যোগী হতে পেরে ভালো লাগছে। এখন মাদ্রাসার পরিবেশ পঠনপাঠনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের পক্ষেও অনুকূল। শিক্ষক মহ পারভেজ বলেন এই এলাকা খুব স্পর্শকাতর ভোটে বোম্বিং গলাগলি হয় নিশ্চয় এই ভোট প্রক্রিয়া শিশু মনে প্রভাব পড়বে যে ভাবে কি গনতন্ত্ৰ মেনে নিজের পছন্দের পার্থী কে ভোট দিতে হয়।

মাদ্রাসার ছাত্রী মেহেনুর বলছে এই প্রথম ভোট দিলাম খুব আনন্দ হচ্ছে এবং সানিয়া বলছে আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি আবার ভোটও দিলাম প্রধান শিক্ষক যা আদেশ করবে তা পালন করবো। মাদ্রাসার অন্য পড়ুয়া প্রার্থী বলে গতকাল আমার দাদা মারা গেছে তাও আমি ভোট দিতে এসেছি আর ভোটে জিতে মন্ত্রী হলে মাদ্রাসার উন্নয়নে কাজ করে যাবো

মাদ্রাসার সভাপতি শাজাহান আলী বলেন প্রধান শিক্ষকের তৈরি মিনা মঞ্চ সেফটি এবং সিকিউরিটি কমিটি বিশাখা গাইড লাইন কমিটি ও ‘চাইল্ড ক্যাবিনেট’ বা শিশু মন্ত্রীসভা এলাকায় বেশ প্রভাব ফেলেছে।