টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বেশ কিছুদিন থেকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায় দুইজন ভিক্ষুককে জোর করে জয় শ্রী রাম বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিন্তু টিডিএন বাংলায় খবর করার মতো সূত্র হাতে ছিলোনা।
তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরেই খবরের সত্যতা জানতে বেশ কিছু সাংবাদিক খোঁজ শুরু করেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত খবরটি টিডিএন বাংলার পাঠকদের জন্য অনূদিত হলো।
রবিবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৬৭ বছরের অন্ধ বাসির যে কিনা ভিক্ষা করে দিনপাত করেন , তিনি জানান,”আমার একমাত্র অপরাধ ছিল যে আমি মুসলিম এবং একটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতে ঢুকে পড়ি।”

বাসিরের স্ত্রী বেদেনা বিবিও (বয়স ৬১ ) জন্মান্ধ । দুজনকেই ‘ জয় শ্রী রাম ‘ ও ‘ জয় মা তারা ‘ গাইতে বাধ্য করা হয়। পশ্চিম বাংলার পশ্চিম বর্ধমানের চিটাদঙ্গার আন্দোলে একদল হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের লোকজনের হাতে তাদেরকে হেনস্তার স্বীকার হতে হয় । স্যোশাল মিডিয়ায় তাঁদের সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় । যদিও তৎক্ষণাৎ ওই দলটির কেউ কি কোনো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের এটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভবপর ছিলোনা।
বাসার জানান,ঘটনাটি মঙ্গলবার ঘটে । এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই এই একই জেলার রানীগঞ্জ এবং আসানসোলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধে। রানীগঞ্জ থেকে আন্দালের দূরত্ব ৩২ কিমি এবং আসানসোল থেকে এর দূরত্ব ১৮ কিমি। বাশার জানান তিনি ভিক্ষা করতে বেরোবার সময় এসব কিছুই জানতেন না।
“আমরা বীরভূম এবং বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গাতে যাই । আন্দালের এই এলাকায় যখন এলাম তখন একদল লোক এসে আমার মাথার টুপি খুলে নেয় । তারা ভয় দেখায় যে আমাকে মেরে ফেলবে এবং আমি একটি হিন্দু এলাকায় ঢুকে পড়েছি। তার পর ওরা আমাকে এবং আমাক স্ত্রী কে মারধোর করতে থাকে । আমার স্ত্রী ওদের কাছে অনুনয় বিনয় করে আমার প্রাণ ভিক্ষা চাইল । সে বললো আমাদের কে যদি ছেড়ে দেন তাহলে আমরা আর কোনো দিন এই এলাকাতে আসবোনা, কিন্ত ওরা কোনো কথাই শুনলো না”- বাশার জানান।
বাশার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ফোন কলের মাধ্যমে দেওয়া তাঁর সাক্ষাতকারে আরো বলেন,”আমি ওদেরকে বলেছিলাম যে আমরা অন্ধ। আমরা ভিক্ষা করতে গেছিলাম ওখানে কোনো সমস্যা পাকাতে নয় । কিন্তু ওরা আমাদেরকে যেতে না দিয়ে , ‘ জয় শ্রী রাম’ ও ‘ জয় মা তারা ‘ বলতে বলে। আমি ওদেরকে বললাম যে ভগবান আল্লাহ সব এক এবং সবার নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা আছে । আমি তাদেরকে বললাম কেনো তারা আমাদেরকে জোর করে
জয় শ্রী রাম বলাতে চাইছে। যেহেতু আমাদের প্রাণের ভয় ছিলো , ওরা যা চায়ছে তাই বলতে রাজি হয়ে যাই।”

ভিডিওটিতে গলার আওয়াজ শোনা যায় যেখানে বাশারকে ‘ জয় শ্রী রাম ‘ ও ‘ জয় মা তারা ‘ বলতে বলা হচ্ছিল। যখন তিনি এই নারা দেন তখন তাঁর হাতে গেরুয়া রঙের একটি পতাকা ধরা ছিলো । পতাকার উপর ‘ ওঁম ‘ লেখা ছিলো।
” গত দিনের সাম্প্রদায়িক হিংসা সংক্রান্ত আমার কোনো ধারণাই ছিলো না । যদি আমার জানা থাকতো,তাহলে আমি ওই এলাকা দিয়ে যেতাম না । সারাটা জীবন আমি ভিক্ষা করেই জীবিকা নির্বাহ করেছি । কিন্তু এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন জীবনে কোনো দিন হতে হয় নি”,তিনি বলেন ।
আন্দাল থানার আধিকারিক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন,তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন না। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগও জমা পড়েনি।
বেদনা বিবি জানান যে ওনারা এতটাই ভীত ছিলেন যে থানায় গিয়ে বুড়িগ্রামের বাড়ি ফেরার মতো সাহস ছিলোনা। এই অন্ধ দম্পতির এক ছেলে আছে । তার বিয়ে ও হয়েছে,একটি কন্যা সন্তান আছে । সে এখন স্কুলে পড়ে।

( লিখেছেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাংবাদিক শান্তনু চৌধুরি)