রেবাউল মণ্ডল, টিডিএন বাংলা, করিমপুর: সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মেহেদী হাসান। বাবা বৃদ্ধ। দারিদ্রতায় ভর করে সংসারটা চলে কোনমতে। গৃহশিক্ষক নেই। এরই মাঝে এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৫৪ পেয়ে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে নদিয়ার মেহেদী হাসান মন্ডল।

নদিয়ার থানারপাড়া এইচএম হাই মাদ্রাসা থেকে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক দেয় মেহেদী। কোন গৃহশিক্ষক ছাড়াও যে ভালো রেজাল্ট করা যায় এলাকাবাসীকে তা দেখিয়ে দিয়েছে মেহেদী। করিমপুর থানার বারবাকপুর গ্রামের মেহেদীর নাম এখন সকলের মুখে। বেতন দিতে না পারায় মুখ লজ্জায় মাঝপথে টিউশন পড়তে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল মেহেদী।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স করার ইচ্ছে নিয়ে মুর্শিদাবাদের আমতলা জেআর মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে সে। ভবিষ্যতে শিক্ষক হবার স্বপ্ন দেখছে এই মেধাবী ছাত্রটি। পড়াশুনার পরবর্তী খরচ টানতে এখন বাড়িতে টিউশনিও শুরু করেছে সে। তার এই রেজাল্টে স্কুল শিক্ষকদের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছে মেহেদী।

টিডিএন বাংলাকে মেহেদী জানায়, বাবার বয়স হয়েছে। পরিশ্রম করতে পারে না। দাদারা সবাই নিজ নিজ সংসারে ব্যস্ত। তাই নিজের পড়াশুনার খরচ চালাতে বাড়িতেই টিউশনি শুরু করেছি। ইচ্ছে আছে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবা মা ও সমাজের জন্য কিছু করার।

ষাটোর্ধ বাবা আকরামেল মন্ডল দুঃখের সুরেই বললেন, একা একা পড়েই ছেলে ভালো নম্বর পেয়েছে। ওর মাথা ভালো। আরও পড়তে চায়। কিন্তু আগামীতে ওর পড়াশুনার খরচ কে চালাবে ভেবে পাচ্ছি না।

উল্লেখ্য, এই মাদ্রাসা থেকেই ২০১৩ সালে মাধ্যমিকে ৭২৭ পেয়ে রাজ্যে চতুর্থ হয়েছিল থানারপাড়ার আর এক কৃতি ছাত্র রেজওয়ানুল হক মন্ডল। ২০১৭ সালে রেজওয়ানুল এর বোন কিসমা জুমানা ওই একই নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে জেলায় দ্বিতীয় হয়ে সবার নজর কাড়ে।