টিডিএন বাংলা ডেস্ক : সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে বিজেপি ও তৃণমূল পরস্পরের পরিপূরক। গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, এই তিনটি প্রশ্নেই তৃণমূলের ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শুক্রবার সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র এই মন্তব্য করেছেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশ উপলক্ষে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এ-রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। ওই বার্তায় রাহুল গান্ধী লিখেছেন, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতেই প্রকৃত জাতীয়তাবাদ ও উন্নয়ন সম্ভব। এদিন সূর্য মিশ্র ওই বার্তার উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, রাহুল গান্ধী ঠিকই বলেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা হলো এই তিন প্রশ্নেই এই রাজ্যের শাসক দলের ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

সূর্য মিশ্র আরও বলেন, এ রাজ্যে তৃণমূল পঞ্চায়েত-পৌরসভা থেকে লোকসভা পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে ভোট লুঠ করেই চলেছে। মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার এখানে বিপন্ন। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের ওপরে ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে। এই আক্রমণের হাত থেকে কংগ্রেস কর্মীরাও বাদ যাননি। পুলিশকে শাসক দলের অনুগত বাহিনীকে পরিণত করা হচ্ছে। তৃণমূলের নেতারা ও দুর্বৃত্ত বাহিনী ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে। মিশ্র বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দলিত, তফসিলি জাতি, আদিবাসী মানুষ ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রাম-শহরে কাজ নেই, মানুষ কাজের খোঁজে রাজ্যান্তরী হচ্ছেন। চা বাগান থেকে জঙ্গলমহলে অনাহার, অর্ধাহার, কাজের অভাবে হাহাকার।

তিনি বলেন, বিজেপি ও তৃণমূল সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে পরস্পরের পরিপূরক। প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতার বাতাবরণে পশ্চিমবঙ্গের সম্প্রীতি ও ঐক্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকেই দুই দল নষ্ট করছে। আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা মনে করি বিজেপি ও তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধেই ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক শক্তির সমবেত হওয়া প্রয়োজন। দেশ ও রাজ্যকে বাঁচাতে তা প্রয়োজন।

সূর্য মিশ্র এদিন আরও বলেন, আমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য রাখব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা কী অবস্থান নেন, ভবিষ্যতে তা নিয়ে আমরাও আমাদের অভিমত দেব। গণশক্তি