টিডিএন বাংলা ডেস্ক, কলকাতা : ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের ‘দলে সবাই স্বাগত’ এই বার্তায় মমতা বিরোধী হিসেবে দলকে শক্তিশালী করতে গিয়ে ফাঁপরে পড়লেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

গত রবিবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ কুণাল ঘোষের বাড়িতে চা-চক্রে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্র ও অরুণাভ ঘোষ। এই খবর প্রকাশ হতেই কুণাল ঘোষের বাড়িতে বৈঠকে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে বলল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর সেই জবাব দিতে হবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। যদিও বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই একে নিছক ‘চায়ের আড্ডা’ বলে চালানোর চেষ্টা করেন।
শিয়ালদহের একসময়ের বেতাজ বাদশা সোমেন মিত্রের সঙ্গে মতবিরোধের জন্যই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গড়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সাংসদ হয়েছিলেন সোমেন মিত্র। সোমেনের স্ত্রীও বিধায়ক হয়েছিলেন মমতার দলের টিকিটে। কিন্তু তৃণমূলের সংস্কৃতি মানিয়ে নিতে পারেননি তিনি। তাই দল ছেড়ে ফের কংগ্রেসে যোগ দেন সোমেন দম্পতি।
উল্লেখ্য, সপ্তাহখানেক আগেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন বলে গুঞ্জন ছড়ায়। যদিও তা ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে খারিজ করে দিয়েছিলেন সাংসদ নিজেই। এবার প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে নিয়ে শুরু হলো একই গুঞ্জন। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির কেন্দ্রীয় বিজেপি রাজ্য বিজেপির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ায় ফাঁপরে পড়েছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে বৈঠকের জন্য জবাবদিহি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, সারদাকাণ্ডে অভিযুক্তের বাড়িতে কেন হঠাৎ বৈঠক করতে হলো লকেট চট্টোপাধ্যায়ের। সেই বৈঠকে কী করছিলেন সোমেন মিত্র ও অরুণাভ ঘোষের মতো কংগ্রেস নেতারা। সবকিছুই জানাতে হবে বিজেপিকে।
প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও সোমবারও ‘চায়ের আড্ডা’ তত্ত্বেই অনড় ছিলেন রাজ্য বিজেপি নেতারা। তাদের দাবি, নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে মুখোমুখি হয়েছিলেন সবাই। সেখানে কোনো রাজনৈতিক আলোচনাই হয়নি। আদালতের নির্দেশে কুণাল ঘোষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত, তাই তার বাড়িতেই বৈঠকের আয়োজন হয়।
যদিও বিষয়টিকে এত সহজে নিতে নারাজ বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব। তাদের প্রশ্ন, দুনিয়ায় কি বৈঠক করার জায়গার অভাব পড়েছিল? সারদাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ। জামিনে তিনি মুক্ত থাকলেও এখনো তার বিচার চলছে। তিনি যে দোষী সাব্যস্ত হবেন না তার নিশ্চয়তা কী? তার অপরাধের সর্বোচ্চ সাজার প্রায় সমান সময় জেলবন্দি ছিলেন তিনি। ফলে দোষী প্রমাণিত হলেও তাকে হয়তো আর জেলে যেতে হবে না। কিন্তু সারদাকাণ্ডের মতো বড় কেলেঙ্কারির অন্যতম কাণ্ডারির সঙ্গে বিজেপির এত ঘনিষ্ঠতা কেন, তা নিয়ে পাল্টা প্রচারে নামতে পারে তৃণমূল। এতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ধাক্কা খেতে পারে।