টিডিএন বাংলা ডেস্ক: রেল বোর্ডের কমিটির সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার নামে ৪৬ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠল দিলীপ ঘনিষ্ঠ এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ধৃত দক্ষিণ কলকাতার ওই বিজেপি নেতার নাম বাবান ঘোষ। সূত্রের খবর, বাবানের বিরুদ্ধে সরশুনা থানায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন সন্তু গাঙ্গুলি নামের এক যুবক। ওই এফআইআরের কপিতে মুকুল রায়েরও নাম আছে বলে জানা গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত দেড়টায় ঘুম থেকে তুলে আনা হয় বেহালার শকুন্তলা পার্কের বাসিন্দা বাবান ঘোষকে। দীর্ঘ জেরার পর সকাল সাড়ে ৯ টায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার বাবানকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে। বাবানের আগাম জামিনের জন‍্য বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

ব্যবসায়ী সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ২০১৫ সালে সুরেশ প্রভু রেলমন্ত্রী থাকাকালীন বিজেপি নেতা বাবান ঘোষ তাঁকে রেলের স্থায়ী কমিটিতে স্থায়ী সদস্য পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন৷ সন্তুবাবুকে সংসদেও নিয়ে যাওয়া হয়৷ রেলের দফতর থেকে মন্ত্রীর সই করা কিছু কাগজও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু পরে যখন আমার সন্দেহ তখন সেই কাগজগুলো নিয়ে পূর্ব রেলের সদর দফতর ফেয়ারলি প্লেসে যান৷

ওই ব্যবসায়ীর দাবি, পরবর্তী ক্ষেত্রে যখন তিনি বুঝতে পারেন পুরোটাই প্রতারণা তখন তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরই ঘটনার তদন্ত শুরু করে আজ পাটুলির বাড়ি থেকে বাবান ঘোষকে গ্রেফতার করেছে সরশুনা থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ১২০-বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে আজ আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে চাইবে পুলিশ। বাবান এবং মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে বিজেপি শিবির। তাদের দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

মুকুল রায়ের বিরুদ্ধেও চার্জ গঠন করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে৷