টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সারাদেশে নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতায় উত্তেজনার পরিবেশ। প্রতিবাদ জানাতে বাদ নেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও। বিক্ষোভের জেরে কাল অসম সফর বাতিলের ঘোষণা করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এমন বিক্ষোভের মাঝেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য পেশ করার জন্য গিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। আর সেখানে গিয়েই তিনি পড়ে গেলেন বেকায়দায়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা ধরে তাকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা।

জানাগেছে, সিএএ-এনআরসি ও এনপিআর এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ভারত বনধকেও সমর্থন জানিয়েছিল, সেই একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু পড়ুয়াদের অভিযোগ, উপাচার্য কেন এই বিষয়ে বক্তৃতা দিতে কেবল বিজেপির মুখপাত্রকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির বক্তাদের না ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই কারনেই পড়ুয়াদের প্রতিবাদ।

কিছু পড়ুয়া দাবি করেছেন যে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভকারীদের উপর আক্রমণ চালানোর জন্য লোক জড়ো করছে।

শিক্ষকদের একটি অংশ এর আগে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছিল যে বক্তৃতার দিনটি পরিবর্তন করতে হবে কারণ ওই একই দিনে শ্রমিক সংগঠনের ডাকে ভারত বনধ রয়েছে এবং একজন ব্যক্তির বক্তৃতার পরিবর্তে সেমিনার বা প্যানেল গড়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত করা হোক।

বিকেল ৫ টা নাগাদ স্বপন দাশগুপ্ত টুইট করেন, “সংঘর্ষের জন্য বাইরে জনতা চিত্কার করছে, উস্কানি দেওয়া হচ্ছে,” কয়েক ঘণ্টা বাদে ফের টুইট করেন তিনি।

রাত ৯ টা নাগাদ পড়ুয়ারা তাদের ধর্না শেষ করেন। স্বপন দাশগুপ্ত এবং উপাচার্য শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে দশটার দিকে ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরোন।

স্বপন দাশগুপ্তের কোনও ক্ষতি হলে গুরুতর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও পোস্ট করেন।