টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সহপাঠীদের সঙ্গে সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অভিযোগে বিশ্বভারতীর এক বাংলাদেশী ছাত্রীকে ভারত ছাড়ার নোটিস দিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। জানাগেছে, শিল্প সদনের ডিজাইন ডিপার্টমেন্টের প্রথম বর্ষের ছাত্রী আফসারা অনিকা মিম। তাকে বুধবার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (‌এফআরআরও)‌ থেকে এই নির্দেশিকা আসা নিয়ে বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁর বন্ধুদের বক্তব্য, এরকম একটি বিক্ষোভের সময় আফসারা কিছুটা দূরে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

জানুয়ারি মাসের 8 তারিখে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি সিএএ ও এনআরসির বিরোধিতায় ২৪ ঘণ্টা ভারত বন্‍ধ‌‍-এর ডাক দিয়েছিল। সেই ডাকে বিশ্বভারতীর বাম সমর্থিত ছাত্রছাত্রীরা বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় দফতরের সামনে আন্দোলন চালিয়েছিল। আর সেখানেই নাকি আফসারাকেও দেখা গিয়েছিল। আর সেই কারনেই তাকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দিল কেন্দ্র সরকার।

যদিও বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগ বিশ্বভারতীর মধ্যে আন্দোলন থামানোর জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ। আবার অনেকের মতে, পড়ুয়া হিসেবে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিতেই পারেন ওই ছাত্রী৷ তার জন্য দেশ ছেড়ে চলে যেতে যাওয়ার মতো অপরাধ দেখছেন না বিশ্বভারতীর অন্যান্য ছাত্র ছাত্রীরা।

বুধবার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (‌এফআরআরও)‌ থেকে পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ভারত–বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই ফরেনার্স অ্যাক্ট‌ ১৯৪৬–এর সেকশন ৩–এর সাব সেকশন (‌২)‌ অনুযায়ী তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হল। নির্দেশিকা পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাঁকে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে। তবে নির্দেশিকায় তিনি ভারত–বিরোধী ঠিক কী কার্যকলাপ করেছেন সে–বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, ‘‌অ্যান্টি গভর্মেন্ট অ্যাক্টিভিটি’তে যুক্ত রয়েছেন।

আফসারার এক সহপাঠী বলেন, আইনের মারপ্যাঁচ কিছুই বুঝি না আমরা। হঠাৎ এই নির্দেশ পেয়ে আফসারা অসুস্থ। আমরা তাকে সঙ্গ দিচ্ছি। ও একটু সুস্থ হলে আমরা কথা বলব এ নিয়ে কী করা উচিত। তবে এটুকু বলতে পারি, এ নিয়ে আগে কখনও যোগাযোগ করা হয়নি। আজ হঠাৎ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ উপ–দূতাবাস সূত্রে খবর, বিষয়টি তারা জেনেছে। কী কারণে এটা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। কবেকার কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা তারা জানার চেষ্টা করছে।‌‌‌‌‌‌