নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: এখানকার অনেক মানুষ দরিদ্র ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অসচেতন। তাই কলকাতা থেকে গিয়ে জঙ্গল মহলের প্রত্যন্ত এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছেন বেশ কিছু ডাক্তার। দরিদ্র মানুষদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ডাঃ ফারুক হোসেন গাজী বলছেন,’
মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকলে যে কী হয় তা জঙ্গলমহলে এসে দেখলাম।
এখানে হাড়গিলে মানুষগুলোর ব্লাড প্রেসার গড়ে সিষ্টোলিক ১৬০ থেকে ২২০। প্রথমে ভেবেছিলাম, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নয় তো ! সেটা যাচাই করতে পরিচিত অনেক জনের ব্লাড প্রেসারও মাপা হলো। জানা গেল জঙ্গলমহলের মানুষের অজ্ঞতাই এর কারণ । বাঁশের ঝোড়া বুনে অনিশ্চিত আয়ের এই মানুষ গুলো জানেই না  যে এই বেশি ব্লাড প্রেসার ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে জীবন শেষ করে দিতে পারে’।
এই এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে নব দিগন্ত নামে একটি সংস্থা।
সিআরপিএফ জোয়ান গৌরাঙ্গ মাহাতো ও সহযোগি পরিমলের সহযোগিতায়  নব দিগন্তের টিম সুদূর কোলকাতা থেকে পৌঁছে গেল ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনির শবর, কালিন্দী, মাহাতো ও সরদের নিয়ে বসবাসকারী এক প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রাম মুনিয়াদা ও তার সংলগ্ন আরোও কিছু গ্রামে। মূলত তাদের স্বাস্থ্যপরিসেবা ও স্বাস্থ্য-সচেতনতা শিবির সহ গরীব মহিলা ও শিশুদের জন্য বস্ত্র বিতরণের কাজ করছেন বেশ কিছু চিকিৎসক ।

অন্যদিকে ডাঃ ফারুক হোসেন গাজীর নেতৃত্বে একটি টিম পৌঁছে যায় ঝাড়গ্রামের জামবনির মুনিয়াদা গ্রামে । অল্প ঘনত্বের জঙ্গলের গ্রাম গুলো থেকে প্রায় বহু মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ঔষধের ব্যবস্থ করা হয়। ঔষধ দেওয়ার সময় ডাক্তারদের পাশাপাশি  সংস্থার সদস্য নুরুজ্জামান, আমিনুল ইসলামও বেশি ব্লাড প্রেসারের রুগীদেরকে তাদের সমস্যাটি নিয়ে সচেতনতা সহ সাবধানতা নিতে বলেন।  পাশাপাশি মধুমিতা দাস ও এফ মল্লিক প্রায় ৪০ জন মহিলার জন্য নতুন কাপড় ও ৬০ জন ছেলেমেয়ের জন্য নতুন জামা ও ফ্রক বিতরণ করেন নব দিগন্তের পক্ষ থেকে।

Advertisement
mamunschool