সেখ শানাওয়াজ আলি, টিডিএন বাংলা, রানাঘাট : ‘চাই সহিষ্ণুতা , চাই মানবীয় সংহতি’ শিরোনামে আগামী ৪-৫ নভেম্বর ২০১৭ জামায়াতে ইসলামী হিন্দের নদীয়া জেলা শাখা কালীগঞ্জ মির্জাপুর মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রে প্রথম জেলা সম্মেলন করতে চলেছে ।

 

 

 

এই জেলা সম্মেলন উপলক্ষে সংগঠনটি শুক্রবার রানাঘাট পৌরসভা হলে, একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটির নদীয়া জেলা সভাপতি বলেন , মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক হতে হবে ভালোবাসা ও ভাতৃত্বের ।
জেলা, রাজ্য, দেশ তথা দুনিয়া জুড়ে যে অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নদীয়া জেলা তার অবলুপ্তি চাই । বিশ্ব ভাতৃত্ব মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, ভারতে দিন দিন হিংসার পরিবেশকে বাড়ানো হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এধরনের জঘন্য কাজ করে চলেছে।

তিনি আরো বলেন, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই ভারতের মতো দেশের মহান ঐতিহ্য । কিন্তু কোনো অশুভ শক্তি এই ঐক্য বিনষ্ট করতে সদা তৎপর রয়েছে । পেহলু খান, আখলাক ও জুনাইদ হত্যা তাঁর প্রকৃষ্ট প্রমাণ এবং গাভালকার এবং গৌরী লংকেশের হত্যা অসহিষ্ণুতার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত । ভোটের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও মানবীয় সম্প্রীতিকে বিপন্ন করে তুলেছে ।

আসগার আলি টিডিএন বাংলাকে বলেন যে, জনগনের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে , মানবীয় সম্প্রীতির চেতনাকে প্রসারিত করতে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নদীয়া জেলা এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে । বিভিন্ন বর্ন, ধর্ম ও গোষ্ঠীর মধ্যে সহিষ্ণুতার ভাবধারাকে উৎজীবিত করতে এই সম্মেলন জোরদার প্রচেষ্টা চালাবে সংগঠনটি। জাতীয় ঐক্যের সুধীয়করন , ভাতৃত্বের মজবুতিকরণ ও হিংসামুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যেই এই জেলা সম্মেলন হতে যাচ্ছে ।

জানা যায় এই সম্মেলনে প্রায় ২০০০ ডেলিগেটস অংশগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে । নারী-পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রী, জাতি, বর্ন, ধর্ম নির্বিশেষে সর্বসম্প্রদায়ের মানুষকে এই সম্মেলনে হাজির করাতে জেলা সংগঠন প্রয়াস চালাবে।

এছাড়াও এই সম্মেলনে মুসলিম সহ বিভিন্ন ধর্মগুরুরা উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন বলে জানা যায়।

এদিন সংগঠনটির রাজ্য সভাপতি মোহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন, “রাজ্য ও দেশজুড়ে চলমান অসহিষ্ণুতার পরিস্থিতি, দুর্নীতি, অশিক্ষা এবং ধর্ষণ সহ নানাবিধ সমস্যার সমাধান চাই আমরা ।”

তিনি আরো বলেন, সহিষ্ণুতার অভাব চারিদিকে । যেমন জাত-পাতের অসহিষ্ণুতা । এমনকি রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাও বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে । সমাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রও অসহিষ্ণুতার পরিচয় দিচ্ছে। স্বাধীনতার মর্যাদাকে সমুন্নত করতে হলে আমাদের অবশ্যই জাতীয় উন্নয়ের জন্য মানবিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নদীয়া জেলায় বহু মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়েছে । এখান থেকেই গোটা ভারতে সম্প্রীতি ও ভাতৃত্বের সূর ছড়িয়ে দিতে চাইছে সংগঠনটির জেলা শাখা ।