মিজানুর রহমান, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: পার্কসার্কাস ময়দানে ঢুকতেই মুখরিত সেই সবার পরিচিত আজাদী স্লোগান। তীব্র হার কাঁপানো শীতও হার মেনে নিয়েছে তাদের স্লোগানের কাছে। কেউ বা বাড়িতে ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েদের রেখে এসেছেন আবার কেউবা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। আবার অনেকের বাচ্চাদের স্কুলে পরীক্ষা চলছে। তার পরেও স্বাধীনতা আন্দোলনের ময়দান ফাঁকা করে বাড়ি ফিরে যাননি অবস্থানরত মায়েরা। কারণ তাদের একটাই দাবি, সংবিধান যে রক্ষা করতেই হবে। দেশকে যে রক্ষা করতেই হবে। 

ধর্মের ভিত্তিতে আনা মোদি সরকারের বির্তকিত আইন ও কালা কানুন সিএএ এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৩৮ দিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কোলকাতার পার্কসার্কাস শাহীনবাগের মায়েরা। বাড়ি ঘর ত‍্যাগ করে সমস্ত কিছুকে উপেক্ষা করে ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদেরকে নিয়ে এখনও অবস্থানরত মায়েরা। তাদের একটাই দাবি, কোনো মতেই এই নাগরিকত্ব আইন মানা যাবেনা। 

বাচ্চা কোলে নিয়ে অবস্থানরত সুমাইয়া, মারিউম বিবিরা বলছেন, কোনো মতেই মোদি সরকারের ধর্মের ভিত্তিতে আনা নাগরিকত্ব আইন আমরা দেশবাসী মানছি না মানবোনা। আমাদের একটাই পরিচয় আমরা ভারতবাসী। এই আইন লাগু করে আমরা দেশভাগ হতে দেবনা। দেশবাসীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে দেবনা।

বছর ৬৯ এর রিম্পা বিবি জানালেন, আমর সবাই ভারতবাসী। এই ভারতে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান,দলিত, আদিবাসী সবাই এক সঙ্গে থাকতে চাই। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে যতদিন না সিএএ বাতিল হচ্ছে ততদিন আন্দোলন চালিয়েই যাব। 

সম্পা সিরিন নামের এক আন্দোলনকারী বললেন, মোদি সরকার আমাদের মধ্যে হিন্দু মুসলিম ভাগ করে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু আমার এটা কখনও হতে দিতে পারি না। অনেক কষ্টে হিন্দু মুসলিম, দলিত আদিবাসীর রক্তে এই দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। এই দেশ যতটা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর, বিনয় বাদল দীনেশের ঠিক ততটাই আসফাকুল্লাহ, শাহ নাওয়াজ খানের। আমাদের পূর্ব পুরুষদের রক্তে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এই দেশে ঐক‍্যের গান গেয়ে এসেছেন তারা। সবাইকে একসাথে নিয়ে এই দেশের মানুষ থাকতে চাই। কিন্তু কদিনের মোদি সরকার সেই সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চান। যা আমার দেশবাসী কখনও হতে দিতে পারিনা। 

কথা বলতে বলতে অপর এক আন্দোলনকারী হঠাৎ বলে উঠলেন, এই পার্কসার্কাস ময়দানে আমাদের এক সঙ্গী দ্বিতীয় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তার জন্য আমরা যতটা ব‍্যাথিত ঠিক ততটাই ব‍্যাথিত দেশ বাসীর জন্য। এই আইন যদি লাগু হয়ে যায় তবে খুব শ্রীর্ঘই দেশে এক অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হবে। দেশব্যাপী অশান্তি সৃষ্টি করবে একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মানুষ। যা আমরা হতে দিতে পারিনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যারা এখনও পর্যন্ত সিএএ’র বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে আমরা স‍্যালুট জানাই। চলুক দেশব্যাপী ধর্মের ভিত্তিতে আনা আইন সিএএ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন।

উল্লেখ্য, মোদি সরকারের এই নতুন নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারণে ২০১৪ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসা সমস্ত অমুসলিম শরনার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, এই আইন ধর্মের ভিত্তিতে এবং সংবিধান বিরোধী।