টিডিএন বাংলা ডেস্ক: একেই বলে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তােলা। শাহিনবাগের সিএএ বিরােধী প্রতিবাদ মঞ্চ মােদি সরকারের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। করােনা ভাইরাসের আতঙ্কে লকডাউন জারি হওয়ার ফলে সেই ধরনামঞ্চ তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে দিল্লি পুলিশ। এবার উলটে শাহিনবাগের প্রতিবাদীদেরই শায়েস্তা করার সুযােগ হাতছাড়া করতে চাইছে না লকডাউন ভাঙার অজুহাত দেখিয়ে। লকডাউন অমান্য করে শাহিনবাগে হাজির ছিল এই অভিযােগে তিন প্রতিবাদীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রবিবার দিল্লির একটি আদালত এই তিন ব্যক্তিকে জামিন দিয়েছে। তবে জামিনের শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, তারা আর সিএএ , এনপিআর,এনআরসি বিরােধী কোনও পােস্ট হােয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ইত্যাদি সােশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারবে না।এ বিষয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সামনে তাদের মুখ খােলাতেও নিষেধাজ্ঞা আরােপ করেছেন বিচারপতি জিতেন্দ্র প্রতাপ সিংহ। লকডাউন চলাকালীন তারা শাহিনবাগের ধরনাস্থলেও যেতে পারবেন না। ৫ জনের বেশি উপস্থিত আছেন এমন কোনও সমাবেশেও তারা যােগদান করতে পারবেন না। এই মামলাটির তদন্ত যতদিন না শেষ হচ্ছে, ততদিন তাদেরকে শাহিনবাগ থানাতে প্রতি সােমবার সকাল ১০টায় হাজিরা দিতে হবে, জামিনের সময় এসব শর্ত আরােপ করে দিল্লির ওই আদালত। এককথায় আর প্রকাশ্যে সিএএ বিরােধিতা করতে পারবেন না ওই তিনজন

করােনা ভাইরাস কমিউনিটি ইনফেকশনের মাধ্যমে দেশে ছড়িয়ে পড়বে এজন্য নরেন্দ্র মােদির ঘােষণা অনুসারে লকডাউন চলছে বুধবার থেকে
। তার আগের দিনই দিল্লির শাহিনবাগের ধরনাস্থল ফাকা করে দেয় পুলিশ। দুদিন পরে রাজধানীতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় অতিমারি করােনা সংক্রমণ রুখতে। এতে যেমন একদিকে অতি মহামারি ছড়িয়ে পড়া রােখার জন্য মানুষের সমাবেশও বন্ধ হল, তেমনি শাহিনবাগের প্রতিবাদী জমায়েতের বিরুদ্ধেও শক্তপােক্ত একটি অজুহাত খুঁজে পাওয়া গেল।শান মুহাম্মদ, সৈয়দ মাসুদ আহমদ , সৈয়দ তাসির আহমেদ নামে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযােগ, তারা লকডাউন অমান্য করেও প্রতিবাদী জমায়েত জারি রাখতে প্ররােচনা দিচ্ছিলেন এবং পুলিশকে তাদের কর্তব্য পালনে বাধাদান করেন। দিল্লির কেজরিওয়াল সরকারও এই ৩ জনের জামিনের বিরােধিতা করে।দিল্লি সরকার কোর্টকে জানায়, এদেরকে জামিন দিলে জনতাকে এরা প্ররােচনা দিতে পারে এবং এর ফলে আইনকানুন রক্ষার ক্ষেত্রে অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিচারক শেষমেশ শর্তসাপেক্ষে এবং প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন।

অভিযুক্ত তিনজন জানান, আমাদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। এই অবস্থায় লকডাউন ভাঙার অজুহাতে আমাদের জেলে আটক করে রাখলে কোভিড – ১৯ আক্রান্ত হয়ে যেতে পারি। এরপরই তাদেরকে জামিন দেওয়া হয়। তবে যেসব শর্ত আরােপ করা হয়েছে তাতে বিস্মিত অনেকেই । সিএএ – বিরােধী আন্দোলন সারাদেশে যেভাবে বিজেপি সরকারকে কোণঠাসা করে তুলেছিল। সেই পরিস্থিতিতে করােনার লকডাউনকে যে এভাবে প্রতিবাদী কণ্ঠ চুপ করানাের কাজে লাগানাে হবে গণতান্ত্রিক দেশে তা মানানসই নয়।
(সৌজন্য: পুবের কলম)