টিডিএন বাংলা ডেস্ক : অর্জিত অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ লড়াই আন্দোলন সংগঠিত করার আহ্বান উঠল দলিত, আদিবাসী, সামাজিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের সমাবেশ থেকে। এই সমাবেশ থেকে বলা হয়েছে সাম্প্রদায়িকতার ওপর ভিত্তি করে বিজেপি সরকার জাতের নামে ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে। বাংলায় তৃণমূলের নেতৃত্বে চলছে লুটের সরকার। পিছিয়ে পড়া শ্রেণি আদিবাসী ও লোকশিল্পীদের অর্জিত অধিকার রক্ষায় এবং বঞ্চনা বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই দুই সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানানো হলো শিলিগুড়ি পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় মঞ্চ, পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ও লোকশিল্পী সংঘ ও পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চের যৌথ সমাবেশ থেকে।
এই সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন, তাঁদের ভাষা সংস্কৃতি নিয়ে রাজনীতি করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ধামসা মাদল দিচ্ছে রাজ্য সরকার অথচ তারা ভাতা দিচ্ছে না। আদিবাসীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। তাঁদের চাকরি হচ্ছে না। এই অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই সংগঠিত করতে হবে। সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে। এদিন এই আহ্বান জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চের রাজ্য নেত্রী দেবলীনা হেমব্রম। তপসিলি শংসাপত্রের জন্য হয়রানির বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন তিনি। সাম্প্রদায়িক শক্তির প্ররোচনায় দেশপ্রেমের নামে কাশ্মীরিদের ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান প্রাক্তন সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক অলোকেশ দাস। সভা পরিচালনা করেন রামলাল মুর্মু। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন দলিত শোষণ মুক্তি মঞ্চের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রামচন্দ্র ডোম। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় মঞ্চের সহ সম্পাদক দেবেশ দাস, রাজ্য নেত্রী জ্যোর্তিময়ী শিকদার, সংগঠনের দার্জিলিঙ জেলার সভাপতি অধ্যাপক তাপস সরকার, জলপাইগুড়ি জেলার সম্পাদক মহেন্দ্র রায়।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ হেমব্রম, পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ও লোকশিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক শংকর মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। তপসিলি আদিবাসী ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণিভুক্ত মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। আজ সারা দেশে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের অধিকার অর্জনের প্রশ্নে বাবা সাহেব আম্বেদকরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কথা উঠে আসে এই সমাবেশে। এই রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার আমলে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল তপসিলি জাতি ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জাতি আদিবাসী এবং লোকশিল্পীদের জন্য। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার আদিবাসীদের লোকদেখানো ধামসা মাদল বিলি করলেও তাদের সার্বিক উন্নয়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে প্রায় দুই শতাধিক আসন সংরক্ষিত ছিল পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য। তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার সেই সংরক্ষণ তুলে দিতে মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে। অন্যদিকে জাতের নামে ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করছে বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকার। দেশজুড়ে চরম সঙ্কট নেমে এসেছে দলিত সমাজের ওপর। তপসিলি আদিবাসী ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ও লোকশিল্পীর প্রতি দুই সরকারের ক্রমবর্ধমান অত্যাচার, বঞ্চনা বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা দেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তথা পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় মঞ্চের দার্জিলিঙ জেলার সভাপতি অধ্যাপক তাপস সরকার। জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় মঞ্চের জেলা সম্পাদক মহেন্দ্র রায় বলেন এসসি, এসটি, ওবিসি’দের অর্জিত অধিকার হরণ করা হচ্ছে।