সোহেল রানা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : গোটা দেশ জুড়ে চলছে গেরুয়া রাজনীতি। স্কুল, কলেজ, ক্যাম্পাস গুলোতে গেরুয়া শিবির যেন কোমর বেঁধে নেমেছে। বিভিন্ন স্কুলে পঠনপাঠনে চলছে গীতা রামায়ণ পাঠ। আবার কোথাও আরএসএস এর সিলেবাস। গোটা ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির।বিগত লোকসভায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সংসদ বিরোধী শূন্য হয়ে যায়। সরকারের নানা অন্যায় কাজের শত বিরোধীতা হলেও কোন দলের বিরোধিতা পরোয়াই করছে না ফ্যাসিস্ট সরকার। সংসদে প্রতিবাদ না হলেও থেমে থাকেনি নওজোয়ান ছাত্রসমাজ। সরকারের নানা অন্যায় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠে বিভিন্ন কাম্পাস থেকে। এদিকে ছাত্রসমাজের এই হুঙ্কারে ভীত হয়ে গেরুয়া শিবির বিভিন্ন কাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের গলা রুদ্ধশ্বাস করতে উঠেলেগে পড়ে লেগেছে।

যার ফলে রোহিত ভেমুলাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে। মেধাবীছাত্র নাজিব কে গুম করে দেওয়া হয়েছে । কানহাইয়ার মতো বড় মেধাবী ছাত্র নেতাকে হেনস্থা করা হয়েছে। সম্প্রতি আবার জেএনইউ আর এক মেধাবী ছাত্র কৃশ রজনী আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। রোহিত ভেমুলা থেকে নাজিব আহমেদের গুমের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামায় ছিলো তার একমাত্র দোষ। যদিও তার মৃত্যু নিয়ে বহু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে তিনি কট্টরবাদিদের বিরোধীতা করার জন্যই কি তার এই মৃত্যু ? না তিনি দলিত হওয়ার কারনে বঞ্চনার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ? এই প্রশ্ন সবার মনে দানা বেঁধেছে। দেশের এই ভয়ানক অবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কিত। ভারতবর্ষের বিভিন্ন কাম্পাসে এই ভয়াবহ চিত্র দেখে অনেকে বাইরে বিভিন্ন ইউনিভার্সটিতে ভর্তি হতে সাহস পাচ্ছে না। আজকে কাম্পাসে মুসলিম এবং দলিতরা বিভিন্ন ভাবে লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হচ্ছে। বাইরে পড়তে যেতে নিরাপত্তার অভাববোধ করছে বিভিন্ন ছাত্র ছাত্রীরা। সামশেরগঞ্জের সামিম আখতার নামে এক উচচ মাধ্যমিকের ছাত্রের কথায়, বাইরে পড়তে যাব কিভাবে ? বিভিন্ন কাম্পাসে যখন তখন যাকে তাকে গুম করে দেওয়া হচ্ছে, কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। সফিকুল ইসলাম নামে এক অভিভাবকের বক্তব্য, যেভাবে কাম্পাস গুলোতে রাজনীতি চলছে, আর হানাহানি চলছে তাতে ছেলেমেয়েকে বাইরে পড়তে পাঠাতে সাহস পাচ্ছি না।
শুধু সামিম আক্তারই নয় মুর্শিদাবাদ,মালদার বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা বাইরে পড়তে যেতেই অনিহা প্রকাশ করছেন।