টিডিএন বাংলা ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামী হিন্দ পশ্চিমবঙ্গ শাখার রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দীন মন্তব্য করেছেন, ‘২০১৯ সালে লোকসভার যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেই নির্বাচনের আগে বরাবরের ন্যায় সাম্প্রদায়িক দলগুলো মন্দির-মসজিদ ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর মধ্যদিয়ে মেরুকরণের চেষ্টা করে ভোট বিভাজন করে তাঁরা রাজনীতিতে জয়ী হতে চায়।’

তাঁর কথায়, ‘ভারতের যে বড় বড় জাতীয় সমস্যা আছে সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। অর্থনৈতিক সমস্যা, বেকারত্বের সমস্যা, চিকিৎসা ব্যবস্থা সঙ্কটের সমস্যা, মুদ্রাস্ফীতির সমস্যা, ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ার সমস্যা, দুর্নীতির সমস্যার দিক থেকে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

রাম মন্দির ইস্যুতে মুহাম্মদ নূরুদ্দীন বলেন, ‘তাঁরা অর্ডিন্যান্স জারি করে, গায়ের জোরে, হিন্দু ভাবাবেগের নামে মন্দির নির্মাণ করতে চাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনের আগে তাঁদের এধরণের তৎপরতা থেকে প্রমাণ হচ্ছে তাঁরা রাজনীতিই করতে চাচ্ছে, ধর্ম তাঁদের কাছে মুখ্য ইস্যু নয়। রাম মন্দির হবে কি, হবে না সেটা তাঁদের কাছে বড় বিষয় নয়। তাঁরা মন্দির ইস্যু করে ভারতীয় রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের চেষ্টা করতে চায়। দিনের পর দিন গোটা বিশ্ববাসী তা দেখতে পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই দলগুলোর ফ্যাসিস্ট চরিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাঁরা গণতন্ত্র মানে না, আদালতের রায় মানে না, আইনের শাসন মানে না। তাঁরা কেবল ধর্মীয় আবেগ ও ‘মিথ’কে বাস্তবায়িত করতে গায়ের জোরে কাজ করতে চাচ্ছে যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। এটা দেশের জন্য, মানবতার জন্য কোনওভাবেই কল্যাণকর নয়। সেজন্য ভারতীয় মুসলিমরা আদালতের ওপরে আস্থা রেখেছে, বিচার ব্যবস্থার ওপরে আস্থাশীল। তাঁরা কখনোই আইন হাতে তুলে নেয়ার কথা বলেনি এবং আগামীতেও বলবে না বলে আশা রাখি।’

Not available