কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম: বিভিন্ন এলাকায় শাসক দলের অপ্রত্যাশিত ভরাডুবি হয়েছে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে। ইতিমধ্যেই বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মন্ডল নিচু স্তরের দুর্নীতি বন্ধ করতে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এবার পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষাধিক টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনে জেলা পরিষদ তথা প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে দরবার এলাকাবাসীদের। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সাঁইথিয়া ব্লকের মাঠপলশা গ্রাম পঞ্চায়েতে ।এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। অন্যদিকে জেলা পরিষদ ঘটনার তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে শাস্তি গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

২১৯৪৫৪৪ টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ বীরভূমের মাঠপলশা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এর বিরুদ্ধে। উদ্যানপালন দপ্তরের পক্ষ থেকে ১০০দিনের কাজের প্রকল্পে ৩ টি  পুকুর খননের সেই পুকুর পাড়ে বৃক্ষ রোপনের প্রকল্প গ্রহণ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কোন কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অভিজিৎ সাহাকে মৌখিক ভাবে জানানো হলেও তিনি কোন সদুত্তর দেননি। যদিও মাস্টার রোলে প্রধানের স্বাক্ষর আছে।

সোমবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী সহ প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে পুকুর খনন ও বৃক্ষরোপণ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা সমীর মিশ্র বলেন, কোন কাজ হয়নি অথচ প্রধানের স্বাক্ষরে মাস্টার রোল করে কয়েক লক্ষাধিক টাকা উঠে গিয়েছে। এতে রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর বদনাম হচ্ছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে ঘটনার প্রকৃত দোষীদের শাস্তির চেয়ে দরবার করেছি।

প্রধান অভিজিৎ সাহা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, এই ধরনের কাজ গ্রাম পঞ্চায়েত এর পক্ষ থেকে করা হয় না পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ করে থাকে। আমরা কেবল অনুমতি দিয়েছি মাত্র। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছি। জেলাশাসক কে সঙ্গে নিয়ে আমি নিজে ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করব। যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।