কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভুম: সংশোধনাগারের ভিতরে বিচারাধীন বন্দিদের মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আদালতে তলব করা হলো বীরভূমের সিউড়ি সংশোধনাগারের সুপারকে। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বিচারাধীন বন্দীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে জখম হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে এই ঘটনা পুনরায় না হয় তার জন্য জেল কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট সতর্ক ভাবে কাজ করবে।

সিউড়ি আদালতের আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকদিন যাবৎ বেশ কিছু বিচারাধীন বন্দী জেল সুপারের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে​ করছিলেন। যদিও প্রথমদিকে ঘটনাটি সেই ভাবে পাত্তা দেন নি আইনজীবীরা। কিন্তু মঙ্গলবার ও বুধবার মাদক মামলায় দুই বিচারাধীন আসামি তাদের আইনজীবীদেরকে অভিযোগ করেন তাদেরকে সংশোধনাগারের ভিতর মারধর করা হয়েছে এবং সেটা করেছে সংশোধনাগারের আধিকারিক।

এরপর বিচারাধীন দুই বন্দির সিউড়ি আদালতের আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় এবং নৃপেন্দ্র কৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় অতিরিক্ত দায়রা ও জেলা আদালতের বিচারক সোমেশ চন্দ্র পাল এর কাছে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সিউড়ি জেলা সংশোধনাগার সুপার আব্দুল্লাহ কামাল কে ডেকে পাঠানো হয় বুধবার। এক অভিযুক্তের আইনজীবী সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, বিচারাধীন তার মক্কেল সংশোধনাগারের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ করেছিল। সেই ভিত্তিতে আমরা বিচারকের কাছে বিষয়টি জানায়। তাই এদিন জেল সুপারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন বিচারক।

সিউড়ি আদালতের সরকারি আইনজীবী মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, সংশোধনাগার সুপার প্রথমে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। যদিও পরে তিনি বলেছেন, বিচারাধীন বন্দিরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে জখম হয়েছেন। ঘটনার কথা অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ কালাম বলেন, “মারধরের অভিযোগ ঠিক নয়। তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করছিল এবং তাদেরকে ছাড়াতে গিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না হয় সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।”