নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্বমেদিনীপুর জেলার খেজুরির অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলার পাশে দাঁড়ালো সেভ ডেমোক্রেসি ও ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়া। সোমবার এক প্রতিনিধি দল আক্রান্তের বাড়িতে যান।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন, অধ্যাপক চঞ্চল চক্রবর্তী, সৌভিক পাল,সারওয়ার হাসান,শাহজাদী পারভীন, আয়াতুল্লাহ খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, তিনদিন আগে
খেজুরিতে স্বামীর ছোড়া অ্যাসিডে আক্রান্ত হন এক যুবতি ও তাঁর দুই শিশুকন্যা। তিনজনের চিকিৎসা চলছে। অ্যাসিডে ঝলসে গেছে তাদের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ।
খেজুরির দক্ষিণতলার বাসিন্দা বান্টি ব্যানার্জির (নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে বছর আটেক আগে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল হেঁড়িয়ার বাসিন্দা নিরূপমের (নাম পরিবর্তিত)। বিয়ের পর কিছুদিন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু, নিরূপমের চায়ের দোকান ঠিকভাবে চলছিল না। তাই বিয়ের বছর খানেক বাদেই অভিযুক্ত প্রায়ই মত্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে বান্টিকে মারধর করত বলে অভিযোগ। অত্যাচারের জেরে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান বান্টি। তারপর মেয়েদের ভরণ-পোষণের খরচ জোগাতে কিছুদিন আগে কাজের সন্ধানে কলকাতায় যান। কিন্তু, কাজ না পেয়ে পুনরায় বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এর কয়েকদিন পর স্ত্রী ও দুই কন্যাকে বাড়ি ফেরাতে শ্বশুরবাড়িতে যায় নিরূপম। স্থানীয়রা মধ্যস্থতা করলেও বাড়ি ফিরতে রাজি হননি বান্টি। উলটে স্বামীর নির্যাতনের সমস্ত কথা সবাইকে জানিয়ে দেন। ফলে সেখান থেকে চরম অপমানিত হয়ে বাড়ি ফেরে অনুপম। কিন্তু, সবার সামনে অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে। সেই আক্রোশ মেটাতে শ্বশুরবাড়িতে এসে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে। মেয়েদের নিয়ে সেসময় বান্টি টিভি দেখছিলেন। আওয়াজ শুনে কে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে তা জানতে চান। অনুপম নিজের পরিচয় দিয়ে বলে সে মোবাইল ফেরত দিতে এসেছে। এরপর দরজা খুলতেই অ্যাসিড ভরা বোতল নিয়ে স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যার উপর হামলা চালায় সে। যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করেন বান্টি। তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থানে পালিয়ে যায় অনুপম।
পরিবারের লোক রাতেই বান্টি ও তাঁর দুই মেয়েকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হেঁড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তরিত করা হয় তমলুক জেলা হাসপাতালে। এই নিষ্ঠুর ও বর্বর ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছে এলাকার মানুষ। এদিকে বিভিন্ন সামাজিক মানবাধিকার সংগঠন এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়েলফেয়ার পার্টি ও সেভ ডেমোক্রেসির মতো দলের নেতারা ঘটনা স্থলে গিয়ে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ওয়েলফেয়ার পার্টির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হাসান টিডিএন বাংলা কে বলেন,’এই অমানবিক কাজের শাস্তি না হলে রাজ্যটা অপরাধীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে যাবে। একজন মানুষ কত নিষ্ঠুর ও অমামবিক হলে এমন কাজ করতে পারে। আসলে আমাদের সমাজ থেকে ধীরে ধীরে মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। এই নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।’