টিডিএন বাংলা ডেস্ক: অতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ১৩৫ কিমি বেগে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর। তবে ঝড়ের স্বাভাবিক গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১১০-১২০ কিমি। রবিবার মধ্যরাতেই পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন হয়ে স্থলভাগে ঢোকা শুরু করবে বুলবুল। দমকা বাতাসের গতিবেগ ১০০/১১০ কিমি/ঘণ্টা হতে পারে। ১০ বছর পর এই প্রথম কোনও ঘূর্ণিঝড়ের বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় বর্তমানে সাগরদ্বীপের দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে ৫৩০ কিমি দূরে এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ৬৩০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার সন্ধে পর্যন্ত খবর ছিল, বাংলায় না আছড়ে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের দিকে সরে যেতে পারে বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। রাতে জানা গেল, বুলবুলের পথে পড়ে যেতে পারে বাংলার সুন্দরবনও। যে সম্ভাব্য গতিপথ মৌসম ভবন দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় সুন্দরবনে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড়। তার পর সেটি সরে যাবে বাংলাদেশের ভিতরে। ফলে রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির জোর আশঙ্কা।

পূর্বাভাস বলছে, শুক্রবারই দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার দুই ২৪ পরগনার কোথাও কোথাও ২০০ মিমিরও বেশি বৃষ্টির শঙ্কা। ভারী বৃষ্টি হতে পারে দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলিতে। রবিবার দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। শুক্রবার থেকেই রাজ্যের উপকূলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইবে। রবিবার তা বেড়ে ১১০ কিমি/ঘণ্টায় পৌঁছতে পারে।

শুরু থেকেই বারবার অভিমুখ বদলাচ্ছে বুলবুল। শেষবেলায় বাংলাকে ছাড় দিয়ে বাংলাদেশে সরে কি না, সেটাই দেখার।