টিডিএন বাংলা ডেস্ক : রবিবার সন্ধায় এনআরএস হাসপাতালে ১৬টি মৃত কুকুর পাওয়া যায়। যা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ‍্য পেরিয়ে দেশজুড়ে। নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল‍্যান এবং পশুপ্রেমী দপ্তর গুলি। কুকুর নিধন ঘটনায় এবার এনআরএস নার্সিং স্কুলের লাইসেন্স বাতিল করার হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয়  নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী তথা পশুপ্রেমী মানেকা গান্ধী।

অবিলম্বে এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রীকে বহিস্কার এবং অভিযুক্ত নার্সিং পড়ুয়াদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মানেকা গান্ধী।  তিনি আরোও হুঁশিয়ারি দেন, পশ্চিমবঙ্গ নার্সিং কাউন্সিল যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে তাঁকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে বাতিল করা হতে পারে এনআরএস নার্সিং স্কুলের লাইসেন্স। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জাতীয় নার্সিং কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করেছেন কেন্ত্রীয় মন্ত্রী। সূত্রের খবর, এদিন দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ এনআরএস-এর ডেপুটি সুপারকে ফোন করেন মানেকা গান্ধী। বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় দুজনের মধ্যে। ফোনেই এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেক গান্ধী।

কুকুর নিধন কাণ্ডে সুপারের কাছে জমা পড়েছে ৩ পাতার রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট পাঠানো হবে স্বাস্থ্যভবনে। অন্যদিকে, গতকালই কলকাতা পুরসভা জানিয়েছিল যে কুকুরদের নির্বীজকরণের জন্য ক্যাম্প করতে চায় তারা। ক্যাম্প করার জন্য জায়গা চেয়ে কাল-ই কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। পুরসভার চিঠি পাওয়ার পর কুকুরদের নির্বীজকরণ ক্যাম্পের জন্য পুরনো মর্গের ঘরটি এদিন নির্দিষ্ট করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া ঘরের বিষয়ে পুরসভাকে জানানো হয়েছে।

গত রবিবার সন্ধ্যায় এনআরএস হাসপাতালে সুপারের অফিস সংলগ্ন চত্বর থেকে উদ্ধার হয় বস্তাবন্দি ১৬টি কুকুরছানার দেহ। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় মা কুকুরটিরও। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ফাঁস হয় কুকুরছানাদের মৃত্যুর আসল কারণ। দেখা যায়, একাধিক আঘাত ও রক্তক্ষরণের জেরেই মৃত্যু হয়েছে কুকুরছানাগুলির। ২ টি কুকুরছানার লিভার ফেটে গিয়েছে। বেদম মারে মাথার খুলি ফেটে গিয়েছে আরও ২টি কুকুরছানার।  বড় কুকুরটিরও মাথার খুলি ফেটে গিয়েছে।