টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গোয়েন্দা রিপোর্ট মেনে কেন্দ্র সরকার যদি সময় মতো আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ তবে দেশে এভাবে করোনা সংক্রমণ ঘটত না, কেন্দ্র সরকারের প্রতি করোনা নিয়ে এমনটাই মন্তব্য করলেন সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী জয়দীপ মুখার্জি। ৩০ মার্চ প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী জয়দীপ মুখার্জি বাড়িতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজ রাজেশ্বরী শ্রীশ্রী অন্নপূর্ণা পুজা। কিন্তু এবছর করোনার জেরে সারা দেশ জুড়ে লকডাউন চালু থাকায় ধর্মীয় আচার মেনে পুজো হলেও অন্যান্য আচার অনুষ্ঠান, ভোগ বিতরণ প্রভৃতি কর্মসূচী বন্ধ রাখা হয়েছে। মুখার্জি পরিবারের তরফে করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন ফ্লেক্স, ব্যানার দিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতনও করা হয়েছে।

এবিষয়ে মুখার্জি পরিবারের তরফে জয়দীপবাবু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে যে সচেতনতা চলছে তার কথা মাথায় রেখেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরজন্য তারা সকল এলাকাবাসী সহ জেলা ও রাজ্যের এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি আরও বলেন, এবারে রাজরাজেশ্বরী শ্ৰীশ্ৰী অন্নপূর্ণা মায়ের পুজোর ভোগের জন্য যে চাল, ডাল ও আনাজ সামগ্রী আনা হয়েছে তা এলাকার প্রকৃত গরীব ও দুস্থ মানুষদের মধ্যে বিলি ব্যাবস্থা করা হবে। আর এটাই হবে এবারের মা অন্নপূর্ণার প্রকৃত ভোগ। পাশাপাশি তিনি আরও জানান অসংগঠিত শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি রাজ্য সরকারের করোনা ত্রাণ তহবিলে ৩ লক্ষ টাকা দান করেছেন করোনা মোকাবিলার জন্য। জয়দীপবাবু তাদের পরিবারের এই পুজো প্রসঙ্গে বলেন, এবছর এই পুজো ৮১ তম বর্ষে পদার্পণ করলেও মুর্তি এনে বা প্রতিমা পুজোর এটি ৩৪ তম বর্ষ। প্রথমে ঘটে এই পুজোর সূচনা করেন তাঁর ঠাকুমা কমলারানী মুখার্জি। এরপর মুর্তি এনে প্রতিমা পুজো শুরু করেন তাঁর বাবা প্রয়াত শৈলেন্দ্রনাথ মুখার্জি এবং মাতামহী শেফালিকা সরকার। বর্তমানে তিনি সেই ধারা বজায় ব্রেখেই মূর্তি এনেই পুজো করে চলেছেন।

তিনি এদিন আরও বলেন, করোনা সম্পর্কে সচেতনাই মানুষকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। সেই কারণে পুজোর দিন মুখার্জি পরিবারের তরফে এলাকার মানুষের হতে মাস্ক তুলে দেওয়া হবে। জয়দীপবাবুর কথায় এই সময় গরীব মানুষের জলধন অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী তার কথা মত কিছু টাকা দিলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হত। এড়াও তিনি রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে বলেন, এই মুহুর্তে বহু গরীব শ্রমিককে কয়েকশো কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এজন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ব্যবস্থা নিলেও অন্য কোনও রাজ্য ব্যাবস্থা নেয়নি।

পাশাপাশি জয়দীপবাবু বলেন, দুই বা তিন সপ্তাহের লড়াড়নে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অনেকটাই ক্ষতিগ্ৰক্ত হয়েছে। কিন্তু দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবিষয়ে অনেক আগেই তাদের রিপোর্ট দিলেও কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সেভাবে আমল না দেওয়ায় ও সময় মত আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ না করার কারণেই ভারতে করোনা সংক্রমণ ঘটেছে। এমনকি এরজন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন। (সৌজন্য- দৈনিক স্টেটসম্যান)