নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, দক্ষিন দিনাজপুরঃ  ড্রাগন ফল চাষ করতে বাগিচা চাষিদের উৎসাহ প্রদান করছে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর।  গতানুগতিক চাষ আবাদ করে কৃষকেরা যেমন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সাবলম্বী হতে পারছেন না। কৃষি ভিত্তিক জেলার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো উন্নতি করতে বাগিচা চাষিদের সরকারি সহযোগিতায় অর্থকারী ফসল উৎপাদন করে সাবলম্বী হবার দিশা দেখাচ্ছে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর।

ড্রাগন ফল শুধু মাত্র একটি মুখরোচক ফল নয়। এর গুণাবলী সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) সিলমোহর দিয়েছে। প্রধানত গ্রীষ্ম প্রধান দেশ আমেরিকা , থাইল্যান্ড ,ভিয়েতনাম ,চীন ইন্দোনেশিয়াতে জনপ্রিয় ফল ড্রাগন। পশ্চিমবঙ্গের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াতে ফলন হতে দেখা যাচ্ছে ড্রাগন ফলের। দক্ষিণ দিনাজপুরের আবহাওয়া ২৫ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এই ক্যাক্টাস জাতীয় গাছের শ্রীবৃদ্ধি ঘটছে। দেশের পাশাপাশি বিদেশের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে এই অর্থকারী ফলের।

২০১০ সাল থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় পরীক্ষামূলক ভাবে ড্রাগন ফলের চাষের সাথে যুক্ত হয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত সৈনিক আব্দুল মনিম। বর্তমানে সৈনিক আব্দুল মনিম কে সঙ্গে নিয়ে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর সরকারি সহযোগিতায় জেলায় ড্রাগন অর্থকারী ফল চাষ করতে উদ্বুদ্ধ করছে জেলার বাগিচা চাষিদের।

গঙ্গারামপুর মহকুমা উদ্যান পালন আধিকারিক সুমন কর বলেন, গঙ্গারামপুর মহকুমাতে বংশীহারি ও গঙ্গারামপুর ব্লকের দুজন বাগিচা চাষি সরকারি সহযোগিতায় ড্রাগন ফল চাষ করা শুরু করেছে ১০ বিঘা জমিতে জেলাতে পরীক্ষামূলক ড্রাগন ফল চাষ করা হচ্ছে। এই অর্থকারী ফল চাষের সুবিধা ও ড্রাগন ফল কি করে চাষ করতে হবে তার প্রশিক্ষণ উৎপাদিত ফল বাজার জাতো করা সবরকম সাহায্য করবে জেলা উদ্যান পালন দপ্তর।

ড্রাগন ফল চাষ করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করে সরকারি আর্থিক সাহায্যে বাগিচা চাষিদের পথ দেখানো হচ্ছে। রাজ্যের পাশাপাশি সারা দেশ জুড়ে ব্যাপক কদর রয়েছে ড্রাগন ফলের। ড্রাগন ফল চাষের সাথে জেলার চাষিরা যুক্ত হলে জেলার অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি হবে। নতুন দিগন্ত আসবে জেলা জুড়ে।

বাগিচা চাষি অবসর প্রাপ্ত সৈনিক আব্দুল মনিম বলেন, ২০১০ থেকে বাড়িতে ড্রাগন ফলের চাষ করছি। নতুন কিছু করার সন্ধানে নদীয়া জেলার রানাঘাট থেকে ড্রাগন গাছের চারা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে পথ চলা শুরু করি। আজ সরকারি সহযোগিতায় ১ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করছি। আমার ড্রাগন চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাবলু মাহাতো ও দিলীপ সরকার সরকারি সহযোগিতায় কয়েক বিঘা ড্রাগন ফল চাষ করছে।

ড্রাগন ফলের পাশাপাশি ড্রাগন গাছের চারা তৈরী করে দক্ষিণবঙ্গের কয়েক জেলাতে সরবরাহ করেই চলেছি। জেলার বাগিচা চাষি ভাইদের ড্রাগন চাষের সবরকম সাহায্য করছি। জেলার অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর স্বার্থে বেকার দূরীকরণের লক্ষ্যে ড্রাগন অর্থকারী ফল চাষ করা শুরু করুক চাষীরা ।

স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক সৌভিক আলম বলেন, ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি রয়েছে। যার জন্য মানব শরীরে বিশেষ ভাবে চুল ত্বকের উপর কাজ করে থাকে। ড্রাগন ফলে লাইকোপিন থাকায় তা ক্যান্সার প্রতি রোধে সাহায্য করে। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। ড্রাগন ফলে বহুবিধ খাদ্যগুন থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।