কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম : স্মারকলিপি দেওয়ার সময় জেলাশাসক না থাকায় দীর্ঘক্ষন ধরে আটক থাকলো অফিসের কর্মীরা। ভারত জাকাত মীঞ্জহি পারগানা মহল বীরভূম জেলা শাখার পক্ষ থেকে তাদের কয়েকশো মহিলা পুরুষ কর্মীরা সোমবার দুপুরবেলায় জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য হাজির হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি জেলা শাসক ছাড়া অন্য কোন আধিকারিকের কাছে তাদের দাবি সনদ পেশ করা হবে না।

জেলাশাসক কার্যালয়ের প্রবেশপথ কর্মী সমর্থকরা আটকে রেখেছিল তাই অফিসের কোন কর্মীরা সময় পেরিয়ে গেলেও অফিস বন্দি হয়েছিলেন। আগামী ২৯ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামপুরহাট সফরে আসবেন। জেলাশাসক মৌমিতা গদারা সেই সরকারি কর্মসূচির তদারকি করার জন্য রামপুরহাটে ছিলেন। জেলা শাসকের অবর্তমানে সদর মহকুমা শাসক রাজীব মন্ডল ওই আদিবাসী সংগঠনের স্মারকলিপি নিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সংগঠনের নেতৃত্ব নাছোড় তারা একমাত্র জেলাশাসক কে স্মারকলিপি দেবে।

যতক্ষণ না তাদের দাবি মানা হচ্ছে ততক্ষণ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মূল প্রবেশ পথ ঘিরে রাখেন। যেখান দিয়ে কাউকে যাতায়াত করতে দেওয়া হয়নি। বিকেল পেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও একই অচলাবস্থা জারি ছিল। তড়িঘড়ি জেলাশাসক রামপুরহাট থেকে সিউড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। খবর লেখা পর্যন্ত আদিবাসী সংগঠন এর অবরোধ চলছিল।

সংগঠনের আহ্বায়ক ওপেল মার্ডি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় সাঁওতালি ভাষা ও অলচিকি হরফে পড়াশোনা চালু করার দাবি, আদিবাসী সমাজের জল জঙ্গল জমির অধিকার সহ ১১ দফা দাবি নিয়ে আমাদের আন্দোলন। জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বলেন, আমি আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট সংগঠন কে জানিয়েছিলাম মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচির জন্য আমি থাকতে পারব না। আমাদের অন্য আধিকারিক বিষয়টি দেখবেন। তা সত্ত্বেও অবরোধ করেছেন উনারা। আমি তড়িঘড়ি মুখ্যমন্ত্রীর সফরের কাজ ফেলে রেখে সিউড়িতে যাচ্ছি।