টিডিএন বাংলা ডেস্ক, মঙ্গলকোট : রমযান পড়তেই পানীয়জলে সংকট দেখা দিয়েছে সারা মঙ্গলকোট ব্লকজুড়ে। গ্রামে গ্ৰামে থাকা সরকারি সিলিন্ডার কলগুলিব বেশিরভাগ অকেজো। তার উপর উন্নতি প্ৰযুক্তিতে গড়া জার্মান কলগুলি সরু ধারায় বহু কষ্টে জল পড়ছে। মঙ্গলকোট ব্লকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তিনটি জলসরবরাহ কেন্দ্রের মধ্যে একটি দীৰ্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় পড়ে আছে। সদর মঙ্গলকোটের নতুনহাট এলাকায় কোটি টাকা খরচে জলাধার নির্মান প্রকল্প হলেও তা চালু হয়নি। এর ফলে দিনে দুবার যে জলসরবরাহ করা হয় তাতে কলের ট্যাপ না থাকায় জল অনেক সময় অপচয় হয়। এহেন পরিস্থিতির মধ্যে রমযান মাসে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা।

অভিযোগ, গ্রামের সিলিন্ডার কলগুলি মেরামতির জন্য বারবার স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং ব্লক অফিসে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। জার্মান কল খারাপ হলে তা চালু করা কঠিন ব্যাপার বলে কল মিস্ত্রিদের দাবি । জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের জলাধারণ প্ৰকল্প নিৰ্মাণে

জল সরবরাহের জন্য পাইপলাইন আধুনিকীকরণ হয়নি। এর ফলে কোটি টাকা দিয়ে তৈরি জলাধার দেখতে ভালো লাগলেও কাৰ্যক্ষেত্রে চালু করা দুষ্কর হয়ে উঠেছে মোটা

পাইপলাইন না থাকার জন্য। তবে মঙ্গলকোটের ভূগৰ্ভস্থ জলস্তর খুবই বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। ‘গ্রে’ পর্যায়ে বৰ্তমান জলস্তর। মাটির

নীচে বৰ্ষাকালে ওয়াটার রিচার্জ সিস্টেম প্ৰকল্প চালু করতে সরকারি উদ্যোগ নিতে দেরি করলে

পানীয় জল না পেয়ে আগামীদিনে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে মঙ্গলকোটবাসীকে, দাবি বিশেষজ্ঞমহলে।

দশ বছর পূৰ্বে মঙ্গলকোটের বেশিরভাগ এলাকায় ৫-৬ ফুট নীচে স্বাভাবিক জলস্তর পাওয়া যেত। সেখানে বৰ্তমানে ২২০ – ২৫০ ফুটে দাড়িয়ে। তাই ভূগৰ্ভস্থ ওয়াটার রিচাৰ্জ এবং অজয় নদীতে জলশোধন প্ৰকল্প নেওয়ার দবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। অজয় নদীতে সারাবছর জল থাকে। কাটোয়ায় স্থানীয় পুরসভা যেমন ভাগীরথী নদীর ওপর জলশোধন প্ৰকল্প গড়ে এলাকাবাসীদের পানীয় জল সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি দিয়েছে। অনুরুপভাবে এমএসডিপি ব্লক মঙ্গলকোট এরুপ প্ৰকল্প নেওয়ার দাবি উঠেছে। সমিতির সভাপতি কুন্তলা মুখার্জিকে জানালে তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি আমরা প্ৰস্তাবনা রুপে পাঠাব জেলা প্ৰশাসনকে।