হেদায়েতুল্লাহ খান, টিডিএন বাংলা, ডানকুনি : স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জলনিকাশী সহ বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি উদ্ধোধনের ধুম। এ যেন ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার’। আর সেই অভিযোগে বিক্ষোভ দেখালো ডানকুনি পৌরসভার ২০ নং ওয়ার্ডের মথুরডাঙ্গী-মোনবেড়-মৃগালার বাসিন্দারা। হাসঁপুকুর সংলগ্ন মাঠে নির্মীয়মান স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই কোন জল নিকাশী ব্যবস্থা, পরিকাঠামোগত সরঞ্জাম নেই, চারিদিকে রয়েছে এলোমেলো ইটপাটকেল।

এদিন ঐ স্বাস্থ্যকেন্দ্র উদ্ধোধনের জন্য ফুল লাগানো দেখে এলাকার মানুষ বিক্ষোভ শুরু করে। ফুল সহ অন্যান্য বস্তু খুলে ফেলে দিয়ে গেটে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ জানায় এলাকাবাসীরা। অনির্দিষ্টকালীন নির্মানকাজ বন্ধ রেখে এলাকার বাসিন্দারা দাবী করেন অবিলম্বে নিকাশী ব্যবস্থা করতে হবে এবং এলাকার শিক্ষিত -সংখ্যালঘু যুবক-যুবতীদের চাকরিতে প্রাধান্য দিতে হবে। এব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিলর সেখ হাসারত আলি নিকাশী ব্যবস্থার গাফিলতির কথা কার্যত স্বীকার করে নেন। তিনি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নিকাশীর অনুরোধ করা সহ চাকরীর ব্যাপারে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ব্যাপারে ডানকুনি পৌরসভার চেয়ারম্যান হাসিনা সবনম বলেন, ‘নির্বাচনী আচরন বিধি চালু হবে তাই এটা দ্রুত উদ্ধোধন করা হচ্ছে, নিকাশী ব্যবস্থার জন্য ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে রোডম্যাপ হয়ে আছে। আজ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী হুগলীতে আসছেন এটাও উদ্ধোধন হত, অযথা চক্রান্ত হচ্ছে না?

উল্লেখ্য ডানকুনি পৌরসভার ২০ নং ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চল সারা বছর জলে ডুবে থাকে। এর পরেও নিকাশী ব্যাবস্থা না রেখে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করে ভোট ব্যাঙ্কের হাতিয়ার করছে বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের।

এলাকার বাসিন্দা সেখ সাবির আলি টিডিএন বাংলাকে বলেন, ‘কয়েকদিন পূর্বে নির্মানকর্মীর সূত্রে ২২ শে ফেব্রুয়ারি উদ্ধোধনের খবর পেয়ে কাউন্সিলর সেখ হাসারত আলিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন আমার এব্যাপারে জানা নেই, অথচ আজ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অস্বীকার করেন। তিনি কি গোপন করতে চাইছেন আমরা জানতে চাই। দীর্ঘদিন অন্য ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের গাফিলতিতে কেন নিকাশী ব্যবস্থার সমাধান না করেই উদ্ধোধন করাতে চাইছে? কেনই বা এলাকার মানুষকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা টিডিএন বাংলাকে জানান, ‘পৌরসভার বিভিন্ন কাজে এলাকার মানুষ অগ্রাধিকার পায় কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কারা চাকরি পাবে তা গোপনে ঠিক করে রাখা হয়েছে, আমরা কেউ জানি না, সুপরিকল্পিতভাবে এলাকার সংখ্যালঘু মানুষদের বঞ্চিত করা হচ্ছে’।