নিজস্ব সংবাদদাতা ,টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: এবছরের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকার মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিলেও এখনও পর্যন্ত  জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছে জেলাবাসী। আদৌ সেই বিশ্ববিদ্যালয় হবে কি না তা নিয়েও সন্দেহের দানা বাঁধছে জেলাবাসীর মনে । পঞ্চায়েত ভোটের আগে ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থেই কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন মমতা সরকার! উঠছে প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ৭০ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও মুর্শিদাবাদে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে  উঠেনি। মুর্শিদাবাদে প্রায় ২৬ টি কলেজ থাকলেও উচ্চশিক্ষার জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এর ফলে উচ্চশিক্ষার দিক দিয়ে পিছনের সারিতে রয়েছে এই জেলা । শুধু উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে না প্রাথমিক ,মাধ্যমিক স্তরেও বিভিন্ন দুর্দশা পরিলক্ষিত হয়েছে। রাজ্যে কংগ্রেস, সিপিএম দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও জেলায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্ৰতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি । মা মাটি মানুষের সরকার  আসার দীর্ঘ  সাতবছর অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে টনক না নরায় একযোগে জেলাজুড়ে আন্দোলনে নামেন ছাত্র সংগঠন, অরাজনৈতিক সংগঠন গুলো। হয় বিধানসভা অভিযান । শেষ পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের চাপে পড়েই ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দেয় রাজ্য সরকার।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা হলেও এখনও পর্যন্ত তার গতিবিধি কিছুই এগোয় নি । ফলত ৮০ লক্ষ জনসংখ্যার একটি জেলার মানুষের সাথে এভাবে প্রতারনার বিরুদ্ধে ফের কার্যত গর্জে উঠছে জেলাবাসী। পঞ্চায়েত ভোটের আগে ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থেই কি রাজ্য সরকার এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়ে মানুষকে বোকা বানাতে চেয়েছে ?তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন । জেলার জঙ্গিপুরের শফিউর রহমান নামে এক শিক্ষক জানান, সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি নিয়ে ছাত্র ও  অরাজনৈতিক সংগঠন গুলোর আন্দোলন গুলোকে দমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই মূলত সান্ত্বনা হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে সরকার। জেলাবাসীর সাথে প্রতারনার উদ্দেশ্যেই মমতা সরকার যদি এই কাজ করে থাকেন তাহলে আগামী দিনে চরমতম ফল ভুগতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। কলেজ পড়ুয়া সোহেল রানা, শাহরুখ শেখ, সালাউদ্দিন শেখরা ক্ষোভের সুরে জানান, যেভাবে সরকার পঞ্চায়েত ভোটের আগে তোড়জোড় করে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়েছিলো তাতে জেলাবাসী তথা জেলার আপামর ছাত্র সমাজের চোখে আসার আলো জেগেছিলো কিন্তু সেই আশায় কার্যত জল ঢেলেছে সরকার । এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গতি প্রকৃতির মোটেও অগ্রগতি হয়নি। সত্যিই যদি জেলাবাসীর সাথে প্রতারণার উদ্দেশ্যেই সরকারের এই নামেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা হয়ে থাকে তাহলে আগামীতে চরম ফল ভুগতে হবে রাজ্য সরকারকে। জেলার আপামর ছাত্র সমাজ জেগে উঠলে সরকারের পালানোর আর কোনো পথ থাকবে না ।