নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, পূর্ব মেদিনীপুর: প্রায় এক মাস আগে পূর্ব মেদিনীপুরের শ্রীরামপুর এগ্রিকালচার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র উত্তর ২৪ পরগনার ছেলে শরিফুল গাজীর রহস্যজনক লাশ পাওয়া যায় হোস্টেল থেকে। চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে মেদিনীপুর সহ গোটা রাজ্যে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হত্যাকারীদের কোনো শাস্তির ব্যবস্থা বা দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় নি বলে অভিযোগ। এদিকে তার একমাসের মধ্যে শরিফুলের খুনের সাক্ষী দেওয়া বন্ধুকেও খুন করা হল। এবার খুন হতে হল নবম শ্রেণীর ছাত্র পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থানার শ্যামগঞ্জের বাসিন্দা সৌরভ গুড়ি কে।
স্কুলের তালা বন্ধ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রায় এক মাস আগে ওই স্কুলের আবাসিক হোস্টেল থেকে শরিফুল গাজীর মৃত্যু নিয়ে রীতিমতো চুপ ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। এবারেও সৌরভ গুড়ির মৃত্যু নিয়েও চুপ আছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। এমনটাই অভিযোগ। পর পর দুই ছাত্রের মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা শাসক কে স্মারকলিপি জমা দিল ফ্র্যাটারনিটি মুভমেন্ট এর এক প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সারওয়ার হাসান। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,  “দেশের জনগণ তাঁর প্রিয় প্রজন্মকে ভবিষ্যতের কারিগর করতে শিক্ষাঙ্গনে পাঠায় কিন্তু তাকে মানুষ করার পরিবর্তে চক্রান্ত করে হত্যা দেশের জন্য অশনি সংকেত।”

এবিষয়ে রাজ্য সভাপতি আরাফাত আলী বলেন, “এখনও পর্যন্ত প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে কোন স্বার্থে?  দেশে সাধারন মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। এটা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর ও হতাশার। একজন নিষ্পাপ বালক শিক্ষার জন্য স্কুলে যায়, কিন্তু সেখানে কেন তাদের কে বলি হতে হবে? দেশের স্বাধীনতা কোথায়? কেন দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে? দেশের সর্বত্র আজ এই অরাজকতার পরিস্থিতি চলছে।”

ফ্র্যাটারনিটি মুভমেন্ট এর রাজ্য সহ-সভাপতি  মন্টুরাম হালদার জানান, “ক্যাম্পাসে এই ধরনের ঘটনা আশা করা যায়না। ধিক্কার জানাই স্কুল কর্তৃপক্ষকে। আমরা দেশের জনগণের নিরাপত্তার দাবি করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।” দুই ছাত্রের পরিবার ন্যায়বিচার না পেলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার কথাও তিনি বলেন।