ভোটের নির্ঘণ্ট বাজলেও আন্দোলনে অনড় এসএসসি উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : স্কুলে চাকরির দাবিতে কলকাতা প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে ওরা বসে আছে প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি। বিভিন্ন জেলার চাকরিপ্রার্থীরা দিনের পর দিন অনশন করছেন। মাথার উপরে ছাদ নেই। দিনের সূর্যের তাপ, মশার কামড় আর রাতের শিশির উপেক্ষা করেই চলছে আন্দোলন। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। সেখানে একটু সুস্থ হলে আর বাড়ি ফিরতে চাইছে না। ফের বসছেন ধর্ণায়। ওদের দাবি, নবম-দ্বাদশ শ্রেণীতে আপডেট সিটে নিয়োগ চাই।

ভোটের নির্ঘণ্ট বাজলেও আন্দোলনে অনড় এসএসসি উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা

রবিবার অনশনকারীদের এক প্রতিনিধি দল দেখা করেন ফুরফুরা শরীফের মুখ্যনির্দেশক পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর সাথে। তিনি তাদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। অনশনকারীদের সাথে দেখা করে তাদের দাবি পূরণে সরকারের সাথে আলোচনা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।

অনেকেই কোলে দুধের শিশুকে নিয়ে আন্দোলন করছেন। নিজে না খেয়ে মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন। আছে বাথরুম টয়লেটের সমস্যা। দিন যত বাড়ছে সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসুস্থের সংখ্যাও। রোদ বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য মাথার উপরে ছাউনি দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ তা দিতে দেয়নি বলে অভিযোগ। ফলে এক প্রকার মানসিক জেদ আর চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন আশা নিয়েই ওরা খোলা আকাশকেই করে নিয়েছে আপন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা আসছেন। তারা সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলছেন। সহানুভূতি দেখিয়ে পাশে থাকার আশ্বাসও দিচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রীও এসেছিলেন। বিকাশ ভবনে বৈঠকও হয়েছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। কিন্তু কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, ভোটের নির্ঘণ্ট বাজুক আর যাই হোক চাকরি না নিয়ে ঘরে ফিরব না।

চাকরিপ্রার্থীদের তানিয়া শেঠ বলছেন,
আমরা তো যোগ্য। চাকরিটা না নিয়ে আমরা বাড়ি ফিরব কোন মুখে? বাবা মায়েরা যে আর সহ্য করতে পারছেন না। চাকরির প্রত্যাশায় আজ সাত বছর দিন গুনছি। প্রতি বছর এসএসসি টা চালু থাকলে হয়তো আজ এখানে আসতে হত না।

ভোটের নির্ঘণ্ট বাজলেও আন্দোলনে অনড় এসএসসি উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা

ক্ষীণ কণ্ঠস্বরে অর্পিতা পাল বলছিলেন, বারো দিন হতে চললো আমাদের অনশন। অনেকেই ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। রয়েছে বাথরুম টয়লেটের সমস্যাও। তবুও দাবিতে অনড় আমরা। শিক্ষামন্ত্রীর কথায় আস্বস্ত হতে পারিনি। আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রী নিজে আমাদের দাবিতে হস্তক্ষেপ করুন।

চাকরিপ্রার্থীদের সাথে অনশনে যোগ দিয়েছেন অভিভাবকরাও। তাদের মানসিক সাহস যোগাচ্ছেন। চাকরিপ্রার্থীদের একজন মা বলছেন, মেয়েটিকে কত কষ্ট করে পড়াশুনা করিয়েছি। পরীক্ষায় সফল হয়েও চাকরির জন্য মেয়েকে রাস্তায় বসে থাকতে দেখতে কোন মায়ের ভালো লাগে বলুন!

তবে চাকরিপ্রার্থীরা চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে এবিষয়ে নিজে হস্তক্ষেপ করুক। এদিকে ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে যাওয়ায় সরকার এখন তাদের কথা কতটা ভাবে এখন সেটাই দেখার। তবে ভোট আসুক আর যাই হোক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা থেকে সরছি না বলেও জানাচ্ছেন অনশনকারীরা।