রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, ফারাক্কা :রাজ্যে এই প্রথম কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিন দিন ধরে পালন করলো শিশু দিবস। মুর্শিদাবাদের গঙ্গা ভাঙ্গন কবলিত প্রত্যন্ত পিছিয়ে পড়া গ্রাম মহেশপুরের নূর জাহানারা স্মৃতি হাই মাদ্রাসায় টানা তিন দিন ধরে পালিত হল দিনটি। ১৪ই নভেম্বর পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুর জন্মদিন থেকে ১৫ ও ১৬ নভেম্বর তিনদিনে ঐ মাদ্রাসায় ছিল নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন।

প্রথমদিন ‘শিশু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উৎসবে’র উদ্বোধন করেন রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বক্তব্য, আবৃত্তি, নাচ, গান, নাটক প্রত্রিকা প্রকাশ ও প্রদর্শনী উদ্বোধন অনুষ্ঠান।
প্রধান শিক্ষক জানে আলমের সম্পাদনায় মাদ্রাসার প্ৰথম বার্ষিক পত্রিকা ‘আন নূর’ এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকার এর অধিকর্তা আবিদ হুসেন পত্রিকাটির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ডিডিএইচ নূর পরিবারের সৌজন্যে মাদ্রাসার সকল পড়ুয়া ও অভিভাবকদের ফ্রী হেলথ চেকআপ এর ব্যবস্থা করা হয়। ডিডিএইচ শেখ নূরে আলম ও শাহনাজ রৌশন সহ একাধিক ডাক্তার ও ফারাক্কা ব্লক হাসপাতাল ও অর্জুনপুর গ্রামীণ হাসপাতালের ডাক্তাররা চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। এদিকে মাদ্রাসার পড়ুয়াদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন আগত ডাক্তার নার্সরাও।

অনুষ্ঠানের শেষ দিন ছিল নানান সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন। অংশ গ্রহণ করে মাদ্রাসার পড়ুয়ারা। পাশাপাশি ছিল আকর্ষণীয় নানান প্রদর্শনীর ব্যবস্থা। মাদ্রাসার বিভিন্ন কাজের খতিয়ান ও তার সাফল্যের চিত্ৰ, নমুনা, পড়ুয়াদের হাতের কাজ ও বিজ্ঞান চর্চা প্রদর্শনীতে স্থান পায়।

শিক্ষক জানে আলম বলেন, আমার কাজে এলাকার মানুষদের পাশে পাচ্ছি দেখে ভাল লাগছে। মানুষ সচেতন হচ্ছে। হিংসা ছেড়ে সুন্দর জীবন গড়তে এগিয়ে আসছেন অনেকেই। সামাজিক সংস্কার করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সাধারণ মানুষ সহ ব্লক, থানা, শিক্ষা দপ্তর থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেলেও অত্যন্ত আফসোস স্বাস্থ্য দফতর থেকে আজ অব্দি কোন সহযোগিতা পেলাম না।

বিডিও আবুল আলা মাবুদ আনসার বলেন, সত্যি মহেশপুর অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া অঞ্চল। প্রধান শিক্ষক জানে আলম তার সঙ্গী শিক্ষকদের নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছে এই অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যর উন্নতির পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। গ্রামবাসীরা তাঁকে সহযোগিতা করলে আখেরে তাদেরই লাভ। আর অন্যান্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা জানে আলম সাহেবকে অনুসরণ করলে ফারাক্কা ব্লক অচিরেই রাজ্যের মডেল হয়ে উঠবে।

শিক্ষক জানে আলমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রত্যন্ত ঐ এলাকার বিড়ি শ্রমিক, দিনমজুর ও হকারদের সন্তানরা আজ স্কুলমুখী। বাড়ি বাড়ি নির্মল মিশন বাংলার প্রচার করে ইতিমিধ্যেই প্রশংসিত হয়েছেন ফারাক্কার ঐ শিক্ষক।

ঐ প্রধান শিক্ষকের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে মাদ্রাসার অভিভাবক আব্দুল হক, বিষ্ণু মন্ডলরা জানালেন, শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই এলাকায় পদযাত্রা, হ্যান্ডবিল, মাইকিং করে জনসচেতনতা গড়ে তুলে এখন অনেকটাই সফল তিনি। ‘মিনা মঞ্চে’র প্রেরণায় জীবনে স্কুলের মুখ না দেখা অনেক পড়ুয়াই এখন বিদ্যালয় মুখী। ক্রমশই কমছে খোলা মাঠে শৌচকর্ম।

অরঙ্গাবাদ ডিএন কলেজের অতিথি অধ্যাপক মশিউর রহমান বলছিলেন, গঙ্গা ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় সহকর্মীদের সহায়তায় জানে আলম সাহেব এলাকায় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করে মহিলাদের মধ্যে জাগরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। মাদ্রাসার পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটিয়ে তাঁর নেতৃত্বে এখনো চলছে সামাজিক সংস্কারের কাজ। সরকারের উচিত এমন আদর্শ শিক্ষককে পুরস্কৃত করা।

অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে বিভিন্ন সময় উপস্থিত ছিলেন ফারাক্কা ব্লকের বিডিও আবুল আলা মাবুদ আনসার, পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের সচিব রেজাউল করিম তরফদার, বিধায়ক মাইনুল হক, সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়, মুস্তাফিজুর রহমান, ফারাক্কা ব্লক সভাপতি আমজুমান আর প্রমুখ।