নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : নিজের প্রচেষ্টার কাছে দারিদ্রতা যে কোনো বাধাই নয়, এবারে সেন্ট্রাল নেটে পাস করে সকলকে চমক দিয়ে তা দেখিয়ে দিলো মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার কৃতি সন্তান সুমন হালদার। ফারাক্কা দুই নম্বর কলোনির বাসিন্দা পেশায় চানাচুর বিক্রেতা দেবেন হালদার ও স্মৃতি হালদারের বড় ছেলে সুমন। গরিবের সংসার হলেও ছোট থেকেই মেধাবী ছিলো সুমন। বাবার সাথে চানাচুর বিক্রিতে সাহায্য করার পাশাপাশি নিজের পড়াশুনাও নিয়মিত চালিয়ে যেত সে। নিশ্চিন্দ্রা কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক পড়াশুনা ও নিউ ফারাক্কা হাইস্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণী সম্পন্ন করে পড়াশুনার জন্য মামার বাড়ি জঙ্গিপুর চলে যায় সে। শ্রীকান্তবাটি হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ফের ফারাক্কায় ফিরে আসে সুমন। তার পর ফারাক্কার সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজে সমাজতত্ত্ব নিয়ে গ্রাজুয়েশন এ ভর্তি হয় সে। কলেজে ৬৪ শতাংশ নম্বর নিয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা হয় সুমন। তার পর আর্থিক অনটন কে দুই পায়ে মাড়িয়ে পড়াশুনার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি করতে যায় সে। অশিক্ষিত বাবা দেবেন হালদার ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার আসায় চানাচুর বিক্রি করা টাকা মাসের মাস পাঠিয়ে তার পড়াশুনার সহায় উঠে উঠে। সুমন যাদবপুরেও ৬৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে সকলের সেরা ও প্রিয় পাত্র হয়ে উঠে। মাস্টার  সম্পন্ন করেই আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে নেটের পরীক্ষায় বসে সে। নেট পরীক্ষার ২৩ দিনের মাথায় ফলাফল প্রকাশ হতেই দেখা যায় এসিস্ট্যান্ট অধ্যাপক পদের জন্য পাস করেছে সে। দারিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে প্রথম বার নেট পরীক্ষা দিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সেই নেট পাস করায় আনন্দের জোয়ারে ভেসে উঠে সুমন। সুমনের নেট পাস করার খবর এলাকায় আসতেই আনন্দে উচ্ছসিত হয়ে উঠে গোটা গ্রাম।

নিজের সাফল্য নিয়ে বলতে গিয়ে সুমন হালদার বলেন, নিজের প্রচেষ্টার কাছে শত প্রতিকূলতা হার মানতে বাধ্য। দারিদ্রতা উচ্চশিক্ষায় কোনো বাধা নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।