টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সিপিআই(এম)’র ডাকে গরিব মানুষের টাকা ফেরতের জোরালো দাবিতে সোমবার কলকাতায় মিছিল হয়েছে। ‘আগে চিট ফান্ডে সর্বস্বান্তদের টাকা ফেরত দাও; তারপর পুলিশ-সিবিআই নাটক কর’-এই স্লোগানে সোচ্চার মিছিলে পা মিলিয়েছেন মানুষ। সারদা, রোজভ্যালিসহ বিভিন্ন চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় হয় বিক্ষোভ মিছিল ও সভাসহ নানা কর্মসুচি। রবিবারের ব্রিগেডের রেশ ধরেই এদিন ব্যাপক সংখ্যায় মানুষের জমায়েত হয় মৌলালির রামলীলা পার্কে। ‘চোর ধরো- জেলে ভরো’ এই স্লোগান তুলে এদিন সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা কমিটি মিছিল ও বিক্ষোভ সভার ডাক দেয়। মিছিল যায় পার্ক সার্কাস পর্যন্ত। সেখানে সংক্ষিপ্ত সভায় সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বিমান বসু এবং পার্টির রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র প্রকৃত সত্য উন্মোচন করে স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে বলেন, বন্ধ হোক এই সাজানো চিত্রনাট্য। সবটাই এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কমিশনারকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে কেন? তাহলে তো এবার পালের গোদার পালা। তাঁকে কেন ডাকছে না সিবিআই? মিছিল ও সভা থেকে দাবি ওঠে, ‘নাটক নয়, ফাটক চাই — মানুষের টাকা ফেরত চাই।’ মৌলালির রামলীলা পার্ক থেকে শুরু এই মিছিলে অংশ নেন বিমান বসু, সূর্য মিশ্র ছাড়াও রবীন দেব, সুজন চক্রবর্তী, নৃপেন চৌধুরি, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, রেখা গোস্বামী, মিনতি ঘোষ, দীপক দাশগুপ্ত, মানব মুখার্জি, অনাদি সাহু, আভাস রায়চৌধুরি, কল্লোল মজুমদার সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ছিলেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। মিছিলে শামিল হয়ে তৃণমূল-বিজেপি’র আঁতাতের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জানান মানুষ। ধিক্কার ওঠে তৃণমূল-বিজেপি’র ‘সেটিং’ নিয়ে। হাজারে হাজারে গরিব মানুষ চিট ফান্ডকাণ্ডে সর্বস্ব খুয়েছেন। তাঁরা জবাব চাইছেন এবার। প্রতিবাদ উঠেছে সর্বত্রই। এদিনের প্রতিবাদ মিছিল রামলীলা ময়দান থেকে সিআইটি রোড, লেডিজ পার্ক হয়ে যায় পার্ক সার্কাস লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের সামনে পর্যন্ত। মিছিলের অগ্রভাগ যখন গন্তব্যে পৌঁছেছে তখন শেষভাগ আনন্দ পালিত অতিক্রম করেছে মাত্র। মিছিল শেষে বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন সূর্য মিশ্র ও কল্লোল মজুমদার। ব্রিগেডের দিনই কেন এই নাটক চলল, অন্য কোনোদিনও তো পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিবিআই যেতে পারতো, এই প্রশ্ন তোলেন সূর্য মিশ্র। তিনি বলেন, নাটকটা ভালোই করতে জানেন নরেন্দ্র মোদী আর মমতা ব্যানার্জি। সিবিআই ডাকলে তো যেতেই হয়। পুলিশ কমিশনারকে ডাকলে তাঁকে যেতে হবে বৈকি। কিন্তু এটা আশ্চর্য যে ব্রিগেডের দিনই কেন? চার বছরে সময় হলো না সিবিআই’র? সুপ্রিম কোর্ট তো এই ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ উন্মোচনের ভার সিবিআই’কেই দিয়েছিল সেই সময়ে। আর সিবিআই তো প্রধানমন্ত্রীরই অঙ্গুলিহেলনে চলছে। পুলিশ কমিশনারকে বাঁচাতে এত দরদ কেন? তাঁর কাছে কাগজপত্র, পেনড্রাইভ নাকি আছে। তাহলে ওগুলো কি মৃত্যুবান? তিনি বলেন, এই যে আমরা দেখলাম সিবিআই’কে হেনস্তা করল কলকাতা পুলিশ। পুলিশ আর সিবিআই ভাগাভাগি হয় নাকি আবার? রাজনীতির ভিত্তিতে ভাগ হবে নাকি? তাহলে পালের গোদাকে ধরা হচ্ছে না কেন? আমাদের সাফ কথা হলো টাকা উদ্ধার করতে হবে। মূল দোষীদের ধরতে হবে। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিমান বসু বলেন, সোজা কথা টাকা মেরেছে যারা, তাদের টাকা ফেরত দিতে হবে। কোনও টালবাহানা চলবে না। দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য নাটক চলছে। গত চার বছরে কিছুই হলো না, আর এখনই সব শুরু হলো? আর মুখ্যমন্ত্রীর কাজ কি পুলিশ কমিশনারকে বাঁচাতে ধর্মতলায় ধরনায় বসা? কোন রাজ্যে এরকম কাণ্ড হয়েছে? নেতা-মন্ত্রীরাও বাধ্য হয়েছিলেন সিবিআই’র ডাকে যেতে। কমিশনারের যেতে এত আপত্তি কেন? কান টানলে তো এবার মাথা আসবে। কল্লোল মজুমদার বলেন, শাসক দলের অনেক নেতা মন্ত্রী, কাছের লোকজন যতোই চোর হিসাবে চিহ্নিত হয়ে যাচ্ছে, ততই মানুষের আস্থা হারাচ্ছে ওরা। আর ততই কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার চোর-পুলিশের নাটক নাটক খেলা চলছে। ব্রিগেড প্রমাণ করেছে আরও বেশি করে মানুষ আসছেন লাল পতাকার নিচে। রবিবারের ব্রিগেড দেখে ওদের চোখ কপালে উঠেছে। প্রমাদ গুনছে তৃণমূল আর বিজেপি।