টিডিএন বাংলা, কলকাতা: সম্প্রতি গঠিত হয়েছে রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি। যে কমিটি থেকে বাদ গিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি তথা নেতাজী পরিবারের সদস্য চন্দ্র বসু। রাজ্য কমিটিতে ঠাঁই না হওয়ায় অভিমানী নেতাজি প্রপৌত্র। এনআরসি ও সিএএ-এর বিরোধিতা করার জন্যই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন চন্দ্রবাবু। তবে সাংগঠনিক কোন পদ না পেলেও এখনই দল ছাড়ার কথা ভাবছেন না তিনি। উল্টে দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে নেতাজীর আদর্শকে মেনে চলার জন্য দলকে বার্তা দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা।
২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন নেতাজি প্রপৌত্র। দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকে সেবার ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ভোটে পরাজিত হলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন চন্দ্র বসু। রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। পরের ২০১৬ বিধানসভা এবং ২০১৯ লোকসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। প্রতিবারই তৃণমূলের কাছে পরাজিত হন তিনি। তারপরেও দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন চন্দ্র বসু। এরপরই কেন্দ্রীয় সরকারের এনআরসি ও সিএএ আইন- এর বিরোধিতা শুরু করেন নেতাজির পরিবারের এই সদস্য। দলীয় লাইনের বাইরে গিয়ে প্রতিবাদ করেন তিনি। তার মতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই দুই আইন দেশের ধর্মনিরপেক্ষতাকে আঘাত আনবে। যেটা নেতাজি কোনদিনই চাননি। তাই এই দুই আইনের বিরোধিতা করে সরব হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই দুই আইন মুসলিম বিদ্বেষী ও নেতাজির আদর্শের পরিপন্থী। সেই কারণেই তাকে রাজ্য কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চন্দ্র বসু। দল থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ভোটে পরাজিত হয়েছি। নেতৃত্ব হয়তো মনে করেছে আমি দলকে জয়ের স্বাদ দিতে ব্যর্থ। তাই আমাকে রাজ্য কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাহলে কি এবার পদ্ম শিবির ছেড়ে জোড়া ফুলে দিকে পা বাড়াবেন নেতাজি পরিবারের এই সদস্য? এই প্রশ্নে চন্দ্র বসুর জবাব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুসলিম তোষণের রাজনীতি আমি বিশ্বাস করিনা। তাই এখনই দল ছাড়তে চাই না। যদি সুযোগ করে দেয়া হয় তাহলে আমি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। দলের হয়ে কাজ করে যেতে চাই। তবে বিজেপির হয়ে কাজ করার যতই ইচ্ছা প্রকাশ করুক না কেন, দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি তিনি যে মানিয়ে নিতে পারছেন না সেটা পরিষ্কার। সেই কারণেই হয়তো এভাবে সাংগঠনিক পদ থেকে ছেঁটে ফেলে নেতাজি পরিবারের সদস্যকে বার্তা দিল গেরুয়া শিবির। দলে থাকলেও মুসলিম বিদ্বেষী নীতির বিরোধিতা করবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতাজির প্রপৌত্র।