নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : সুন্দরবন মানেই গাছপালা, জীবজন্তু আর নদীজল ঘেরা একটি অসাধারণ দ্বীপদেশ। দেশ বিদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ নিত্যদিন সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন এখানে।  কিন্তু এখানে এমনও হাজারও মানুষ রয়েছেন যারা বাঘ, সিংহ, কুমিরের সাথে দিন রাত লড়াই করে একমুঠো অন্নের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে জঙ্গলে গিয়ে মাছ ধরেন, মধু সংগ্রহ করেন। তাদের জীবন আজও অবহেলিত, লাঞ্ছিত। সেই কাঠ আর মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে কত পুরুষ কে জীবন হারাতে হয়েছে, কত মহিলা কে বিধবা হতে হয়েছে, শত শত শিশু এতিম হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরও বেশিরভাগ সময়ই তারা সরকারী সাহায্য পাই না। সরকারি অনুমতি ছাড়া জঙ্গলে যাওয়ার কারনে তাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তাই বঞ্চিত সেই পরিবার গুলোকে সুন্দরবন ফাউন্ডেশন একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম সাহায্য প্রদান করে আসছে। সেই সংস্থার চেয়ারম্যান প্রসেনজিত মন্ডললের কথায়, এই সমস্ত বিধবা মহিলাদের জন্য ২৮শে এপ্রিল শনিবার সুন্দরবন এলাকার কমপক্ষে ৫০ জনের হাতে শাড়ী তুলে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই পরিবারবর্গের ছোট-ছোট এতিম শিশুদের নিয়ে ফ্রি কোচিং সেন্টার ও কম্পিউটার শেখানোর ব্যবস্থা করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।

এদিকে এদিনের অনুষ্ঠানে যোগদান করে চিত্র পরিচালক অজিত দাস এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম এর শুটিং শুরু করেন। আগামীদিনে এই সমস্ত পরিবারের সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে একটি কাহিনীচিত্র করার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানান তিনি। সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের  কর্নধার প্রসেনজিত মন্ডল বলেন, ছোটবেলায় আমরা  দেখেছি আমাদের বাবা মা প্রতিদিন জঙ্গলে গিয়ে মধু সংগ্রহ করতো, আর আমরা গভীর আগ্রহে থাকতাম কখন মা-বাবা বাড়ী ফিরবেন। তাই গ্রামের এই মায়াবন্ধন কে ভালোবেসে তাদের পাশে সর্বক্ষণ থাকতে চাই।আবার রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় মল্লিক বলেন, “অসহায় মানুষ গুলির কথা কেউ ভাবেনা। এখন সময় এসেছে ওদের জন্য কিছু করার। সুন্দরবনের মানুষের জন্য স্পেশাল কিছু করতে হবে।” এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, রাজনীতি ছাড়া কিছুই হয়না এখানে। মানুষের কল্যাণের চেয়ে নিজের আখের গোছাতে সকলে ব্যাস্ত। তবে এই ধরণের সেবামূলক কাজ সকলের প্রসংসা কুড়িয়েছে।