টিডিএন বাংলা ডেস্কঃ দেশে একের পর গণপিটুনির ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চেলেছে। গণপিটুনি রুখতে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভাতে বিল পাস করা হয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভাতেও গণপিটুনি রুখতে বিল আনা হয়েছে। কিন্তু তার পরেও রাজ্যে গণপিটুনির ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। কদিন আগে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় ছেলেধরা সন্দেহে জঙ্গিপুরের ২ যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হল। উদ্ধার করতে গিয়ে মাথা ফাটে পুলিশেরও। এবার ছেলেধরা সন্দেহে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে গাছে বেঁধে গণপিটুনি দিল কোচবিহারের দিনহাটার বড়াইবাড়ি এলাকাবাসীরা। আক্রান্ত ওই যুবক দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। পুলিশ সূত্রের খবর, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবককে এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই ঘুরে বেরাতে দেখে তাকে বেশ কিছু প্রশ্নও করেন এলাকাবাসীরা। কিন্তু ওই যুবকের কাছে কোন সদুত্তর পায়নি গ্রামবাসীরা। গ্রামে রটে যায় ওই যুবক ছেলেধরা।

এরপরই ওই যুবককে গাছে বেঁধে মারধর করে এলাকাবসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দিনহাটা থানার পুলিশ। তাকে উদ্ধার করে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কয়েকদিন আগেও উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ারে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয়। আলিপুরদুয়ারের হ্যামিলটনগঞ্জে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় রাজলাল শা নামে ওই যুবকের। অভিযোগ ছিল, সে হ্যামিলটনগঞ্জের এক পুরোহিতের মেয়েকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পুরোহিত ও তাঁর ভাই বাধা দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের আক্রমণ করে ওই যুবক বলে অভিযোগ। এরপরই প্রতিবেশীরা গণপিটুনি দিয়ে তাকে মেরে ফেলে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার মুর্শিদাবাদের খাবির শেখ নামের এক রাজমিস্ত্রি যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়। তার বাড়ি বহরমপুর থানার মুকুন্দপুর সাহাজাদপুর এলাকায়। তিনি লালদিঘির একটি হেলথ ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাতে আসেন। তিনি সেখানে অস্বাভাবিক আচরণ করায় তাকে ক্লিনিকের কর্মীরা ও স্থানীয় বেশ কয়েকজন মানুষও তাকে ব্যাপক মারধর করে। দীর্ঘক্ষণ অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।