নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, ভাঙড় : ভাঙড়ের ভাবমূর্তি বদলের দাবাই হিসাবে প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাত ধরে ভাঙড় কলেজ মাঠে বিগত এক বছর আগে শুরু হয়েছিল বই মেলা। সেই বই মেলা এবছর সরকারি মেলা তথা জেলা বই মেলায় রুপান্তরিত হয়। এই মেলার উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট বসেছিল ভাঙড়ে। যদিও বিতর্ক এড়াতে পারল না বই মেলার মঞ্চ।

বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বই মেলার উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুলাহ চৌধুরী, মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লা। বই মেলার উদ্বোধন করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বই পড়ার অভ্যাস সবার থাকা উচিত। সংবাদ সোচ্চার- বইয়ের কোন বিকল্প নেই। যেখানে জ্ঞানের আলো বৃদ্ধি করতে সবার উচিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা।পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর পাশাপাশি সিদ্দিকুলাহ চৌধুরী সহ রেজ্জাক মোল্লারা যখন বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ঠিক তখনই সেই মঞ্চে খানিকটা গোবেচাররার মতো বসে থাকতে দেখা গেল ভাঙড়ের বহু বিতর্কিত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামকে।

পরিবর্তনের সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই কলেজের এক অধ্যপিকা কে জলের জগ ছুড়ে মারার অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে রাজ‍্য রাজনীতিতে তোলপাড় কম তোলপাড় হয়নি। এছাড়াও ভাঙড় এলাকায় একাধিক খুন জখমের দায়ে বারবার অভিযুক্ত এই ব‍্যাক্তিকে বই মেলায় মঞ্চে বসিয়ে অগনিত ছাত্র ছাত্রীদের জন্য এদিনের মন্ত্রী সাংসদ রা আদৌও কি সঠিক বার্তা উপস্থিত বই প্রেমিদের দিতে পারলেন? তাই নিয়েই উঠল একরাশ প্রশ্ন।

যদিও এদিনের ভাঙড়ের বই মেলার মঞ্চে প্রকৃত অর্থেই ছিল চাঁদের হাট।শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ছিলেন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী আব্দুর রোজ্জাক মোল্লা,কবি সুবোধ সরকার, মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী, সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরান, সাংসদ ইদ্রিস আলি, মহকুমা শাসক দেবারতি সরকার, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ শাজাহান মোল্লা, জেলা পরিষদ শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রকাশ মন্ডল ও অন্যান্য।

বক্তারা সবাই প্রায় বই পড়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষের ইন্টারনেট পরিষেবার কারণে বই পড়ার আগ্রহ অনেক কমে গেছে। যেখানে চটজলদি তথ্য সংগ্রহ করতে ইন্টারনেট আজ অদ্বিতীয়। কিন্তু এসব সত্বেও বই হলো জ্ঞান আরোহণের একমাত্র পথ। যা একজন বয়স্ক মানুষের বন্ধুও বলা যায়। এদিন মন্ত্রী সিদিকুল্লা চৌধুরী উপযুক্ত তথ্য পরিসংখ্যান দিয়ে বলার চেষ্টা করেন এরাজ্যে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় কিভাবে রাজ‍্যের গ্রন্থাগারগুলির উন্নতি হয়েছে বিগত সাত বছরে।

তার মতে আগে অর্থাৎ বাম জামানায় জেলার লাইব্রেরীগুলোতে মদের আসর বসতো। যেখানে পঠনপাঠনের কোন ব‍্যবস্হাই ছিল না। মন্ত্রীর বক্তব্য, এই জেলার একশো বাহান্ন টি গ্রন্থাগার আছে যার মধ্যে একশো চৌত্রিশটির বেশি লাইব্রেরী এখন আরো উন্নত হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাজ‍্যের মূখ্যমন্ত্রী নিজে প্রায় বাহাত্তরের উপর বই লিখেছেন কিন্তু দুঃখের বিষয় তার নিজের দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সেই বই পড়ার উৎসাহ নেই।

এদিন মন্ত্রী ব্রত‍্য বসু বলেন, বর্তমানে একশ্রেণীর মানুষ ইতিহাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, বিকৃত করতে চাইছে আমাদের শিক্ষা সংস্কৃতিকে।একে ফ‍্যাসিবাদ বলে আক্রমণ করে তিনি মানুষকে সজাগ ও সচেতন হবার পরামর্শ দেন। যার জন্য বইকেই একমাত্র হাতিয়ার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তারকাখচিত বই মেলামঞ্চে আরাবুল ইসলামকে নিয়ে মঞ্চ ভাগের আদিখ্যেতা দেখানো নিয়ে সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। মেলায় ঘুরতে আসা এক পাঠকের সরস উক্তি কানে এলো, এতো দেখছি এক গামলা দুধে এক ফোঁটা চূনা যা গোটা গামলার দুধকেই ছানায় পরিনত করে ছাড়লো।