নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, বীরভূম: রবিবার বিকালে বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের কাঁটাগড়িয়া মোড়ে দলীয় প্রার্থী শতাব্দী রায়ের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ত ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন।

আক্রমন করতে গিয়ে তিনি বলেন, “রামকে নির্বাচনের প্রচারে লাগিয়ে বদনাম করছে বিজেপি। রামকে পোলিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবহার করে ভোটে জিততে চাইছে বিজেপি। তাই বিজেপির জেলা সভাপতি দিলীপ ঘোষ তলোয়ার ঘুরিয়ে মুখে জয়শ্রী রাম বলে মানুষকে ভয় দেখায়।”

সুড়সুড়ি দিয়ে যোগীও বলেন, “আলি কা সাথ নেহি হ্যায় তো কিয়া হ্যায়। রাম ক্যা সাথ হ্যায়। আমি বলি, “নো। ইলেকশন আসলে তোমাদের মনে পড়ে? ইলেকশন আসলেই জয় শ্রী রাম। ইলেকশন চলে গেলে ভুলে যায়। হনুমান বুকের মধ্যে জয় শ্রীরাম লেখা দেখিয়েছিল। আর তোমরা রামকে বদনাম করছো! তাই দিলীপ ঘোষ বলছে রামকে পোলিং এজেন্ট না করলে ইলেকশন তো জেতা যাবে না। তাই ইলেকশনের সময় রামকে লাগায় পোলিং এজেন্ট হিসেবে। কিন্তু এবার ভারতবর্ষের মানুষ বলে দিয়েছে রাম নাম সত্য হ্যায়। অর্থাৎ বিজেপির দিন শেষ।”

“আজ ইউপিতে কে কি খাবে ত বিজেপি আর আরএসএস ঠিক করে দেয়। মিথ্যে গরুর মাংস রাখার গুজব ছড়িয়ে হাজার হাজার মানুষকে খুন করেছে। বিজেপি একটা সাম্প্রদায়িক দল। মোটা ভাই অর্থাৎ অমিত শা যিনি বীরভূম আসছেন জেনে রাখবেন, উনি এনকাউন্টার করিয়ে ইশরাত জাহানকে মেরেছেন। ইশরাত বিচার পায় নি। বিচারের বানী নিরবে নিভৃতে কেঁদেছে। কারন এনআইএ তোতাপাখি হয়ে অমিত শাহকে ক্লিন চিট দিয়েছে।”

এভাবেই বিজেপিকে আক্রমন করে তিনি আরও বলেন, “তাই কংগ্রেস, সিপিএম কাউকে ভোট দিয়ে বিজেপিকে রুখতে পারবে না। একমাত্র তৃণমূলই সেটা পারে। বীরভূমে নলহাটির- ২ ব্লকে সিপিএম ও কংগ্রেসের আঁতাত করেছে। এখানে কংগ্রেস বা সিপিএমকে ভোট দেওয়ার আগে ভাববেন, যে সিপিএম কেন্দুয়ায় হাত চিহ্নে ভোট দিয়েছিল বলে কংগ্রেস কর্মীদের হাত কেটে দিয়েছিল, যে সিপিএম সাঁইবাড়িতে কংগ্রেস কর্মীদের মাথা কেটে ফুটবল খেলেছিল। রক্তে ভেজা খাইয়েছিল নিহতের মাকে, সেই সিপিএমের সাথে হাত মিলিয়েছে কংগ্রেস। আর বিজেপি তো একটা বর্বর দল। ওরা এনআরসি করতে চাইছে বাংলায়। ৫৬ ইঞ্চি ছাতি নিয়ে ক্ষমতা থাকলে এখানে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরন করতে আসুন। আমরা জামা খুলে ল্যাঙট পড়িয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেব। বাংলার মানুষ ওদের ঠ্যাং ভেঙে দেবে।”

শুধু বিজেপি, সিপিআইএম নয় কংগ্রেসকেও আক্রমন করতে ছাড়েননি তিনি। বলেন, “কংগ্রেসের কথা কি বলব। যে প্রনব মুখোপাধ্যায়কে দেখে আমরা বড় হয়েছি। প্রনব মুখপাধ্যায় জিন্দাবাদ বলেছি। কিন্তু তিনি যেদিন উনি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ডাকে তাঁদের সভায় গেলেন, সেদিন বুক ভেঙে গেল।”

পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন, “ভেবে দেখুন, আমরা নিকৃষ্টতম প্রধান মন্ত্রী পেয়েছি। উনি প্রধানমন্ত্রীত্ব করতে আসেন নি। উনি দেশ ভাগ করতে এসেছেন। আমরা নেহেরুকে মনে রাখব সেল, ভেলের মত কোম্পানির জন্য ভারতের রূপকার হিসেবে। ইন্দিরাগান্ধীকে মনে রাখব সবুজ বিপ্লবের জন্য, আজকে যে মোবাইল ব্যবহার করছেন সেই টেলিকমের জন্য রাজীব গান্ধীকে, উন্মুক্ত অর্থনীতির জন্য মনমোহন সিংহকে, জাতীয় সড়কের জন্য অটল বিহারী বাজপেয়ীকে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদিকে মানুষ মনে রাখাবে জিএসটি, নোটবন্দী, মানুষের কষ্ট ও দাঙ্গার জন্য।”