নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: তিনি যেন একাই একশো। তৃণমূলের ভোট সন্ত্রাস রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। কথা দিয়েছিলেন একটিও বুথ দখল হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিবেন। সেই কথা মতো আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একই রণাঙ্গনে লক্ষ করা গেল বহরমপুরের বেতাজ বাদশা রবিনহুড অধীর চৌধুরীকে। কখনো কংগ্রেসের এজেন্টকে বসতে বাধা আবার কখনো ছাপ্পা।খবর আসতেই নিজেই দৌড়ে ছুটে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করলেন। পিছু ধাওয়া করে ধরলেন ছাপ্পা করতে আসা যুবককেও। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর যেন ভরসা নয়,নিজেই এক পর্যায়ে কর্মীদের অভয় বাণী দিয়ে বললেন “আমরাই কেন্দ্রীয় বাহিনী”। নিজ কেন্দ্র বহরমপুরের বুকে তাকে এতটা ঘাম ঝরিয়ে লড়াই করতে হবে তা যেন স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি।

সোমবার ঠিক সকাল ৬টা। ফোনের
ওপার থেকে শোনা গেল বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলে কংগ্রেসের এজেন্টকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না।মুহূর্তের জন্য আর থেমে থাকেন নি তিনি। বাইক নিয়ে সেখানে পৌঁছে সন্ত্রাস কারী দলকে নিজেই ধমক দিয়ে তাড়িয়ে এজেন্ট বসানোর ব্যবস্থাও করলেন অধীর।আবার কোথাও ইভিএম খারাপ কোথাও বা কংগ্রেস কর্মীদের ভোট দিতে যেতে বাধা। সব বাধাকে মাড়িয়ে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেও যেন হাঁপিয়ে যাননি তিনি। দুপুর সময়ে খবর আসে কে এন  কলেজের বুথে ছাপ্পা দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়েই কয়েক মিনিটের মধ্যে ছুটে গেলেন বহরমপুরের এই বিদায়ী সাংসদ অধীর চৌধুরী। বুথের ভিতরে অধীরকে দেখতে পেয়ে ছাপ্পা ছেড়ে পালানোর সময় যুবককে ধরতে পিছু পিছু দৌড়ালেন স্বয়ং অধীর! নেতার পিছু পিছু দৌড়ে যুবককে ধরে গনধোলাই দিয়েছেন কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা।

লড়াইয়ের ঠিক শেষ মুহূর্তে নিজের ভোটটাও প্রদান করলেন রবিনহুড অধীর চৌধুরী। এত দৌড় ঝাঁপ করেও কি ফের আরেকবার সাংসদ হিসাবে জয়ী হতে পারবেন অধীর? উত্তর মিলবে ২৩ শে মে।