টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পুলওয়ামার ঘটনার পর সি আর পি এফ ইউনিট থেকে ফোন করা হলেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে কিছু জানানো ও যোগাযোগ করা হয়নি। এমনকি এখনও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়নি। স্বামী মৃত্যুর তিনদিন পর সংবাদ মাধ্যমের কাছে মুখ খুলে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন শহীদ সি আর পি এফ জওয়ান বাবলু সাঁতরার স্ত্রী মিতা সাঁতরা। তিনি সেনা জওয়ানদের নিরাপত্তার অভিযোগও তোলেন। বলেন, ‘নিরাপত্তার গাফিলতি না থাকলে এতোগুলো জওয়ান একসাথে মরতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ করে কোন কিছুর স্থায়ী সমাধান সূত্র পাওয়া যাবেনা। তার জন্য সরকারকে বিকল্প চিন্তা ভাবনা গ্রহন করতে হবে। যুদ্ধ যদি হয় তাহলে আমাদের মতো বহু স্ত্রী স্বামী হারা হবে, অনেক মায়ের কোল খালি হবে। এরপর সরকার সিদ্ধান্ত নিক, কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক। তিনি আর্জি জানিয়েছেন, ‘আমি একটি বেসরকারী বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। যেটার কোন স্বায়ীত্ব নেই। আজ কাজ আছে, কাল নেই। সেকারণে আমার মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন। মা মিতা যখন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন, পাশে দাঁড়িয়ে অবাক দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখছিল শহীদ জওয়ান বাবলু সাঁতরা মেয়ে পিয়াল।

বাবলু সাঁতরার মৃতদেহ শনিবার বেলা ১১টার সময় হাওড়ার বাউড়িয়া চক্কাশীতে নিজের গ্রামে আসার কথা ছিল। কিন্তু মৃতদেহ গ্রামে আসে প্রায় সাতঘন্টা পরে। মৃতদেহ দেরীতে আসা নিয়ে গ্রামের মানুষ ক্ষোভ উগরে দিয়েছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাদের বক্তব্য, একজন শহীদের মৃতদেহ আসাতে যদি এরকম চরম অব্যবস্থা হয় তাহলে আর সরকারকে কিছু বলার নেই। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমান খারাপ হয়ে যাওয়ার জেরে এই বিলম্ব।

শহীদের দেহ গ্রামে আসবে, খবর জানা ছিল সকলের। সকাল থেকেই হাওড়ার গ্রামীন এলাকার বহু জায়গা থেকে কাতারে কাতারে মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে জড়ো হতে থাকে স্থানীয় অমর সংঘের খেলার মাঠে। যেখানে বাবলু সাঁতরার দেহকে শ্রদ্ধা জানানোর কথা। জাতীয়বাদী স্লোগানে মুখরিত হয় গোটা এলাকা। হাজারে হাজারে মানুষকে পুলিশকেও বেশ হিমসিম খেতে হয়। শহীদ বাবলুর মৃতদেহকে একবার দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে রইলো দূরদুরান্ত থেকে আসা জনতা। তাদের চোখেমুখে ক্লান্তির চিহ্ন দেখা গেলোনা। দুপুরে বাবলুর বাড়িতে আসেন সি পি আই (এম) নেতা দীপক দাশগুপ্ত, মীনা ঘোষ মুখার্জি, মোহন্ত চ্যাটার্জি, সাবিরউদ্দিন মোল্লা। তারা বাবলুর পরিবার ও প্রতিবেশীর সাথে কথা বলেন। বাড়ির সামনে প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন।

ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সাড়ে ৬টা। শহীদ বাবলু সাঁতরার মৃতদেহের কনভয় প্রবেশ করলো চক্কাশী অমর সংঘের মাঠে। গোটা মাঠে উপচে পড়া ভীড়। আশপাশের বাড়ির ছাদগুলিতেও তিল ধারনের জায়গা নেই। তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। শহীদ বাবলুর মৃতদেহকে মোবাইল আলো জ্বালিয়ে স্বাগত জানায় জমায়েত জনতা। আস্তে আস্তে মৃতদেহ নামলো ট্রাক থেকে। সি আর পি এফ জওয়ানরা বাবলুর কফিন রাখলো মাঠের মাঝখানে, যেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে তাঁকে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় হাওড়ার জেলা শাসক চৈতালী চক্রবর্তী, হাওড়া গ্রামীন জেলা পুলিশের সুপার গৌরব শর্মা, উলুবেড়িয়ার মহকুমা শাসক তুষার সিংলা, উলুবেড়িয়ার এসিপিও মহম্মদ সানা আক্তার সহ অন্যানরা। শ্রদ্ধা জানায় বাবলুর মা বনমালা সাঁতরা, স্ত্রী মিতা সাঁতরা ও মেয়ে পিয়াল সাঁতরা। শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। এরপর গান স্যালুট দিয়ে সি আর পি এফ জওয়ানরা শহীদ বাবলু সাঁতরাকে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানানো শেষে স্থানীয় বাউড়িয়া চক্কাশী রাজবংশীপাড়া শ্মশানে বাবলুর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।