টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জাতির জনক মহাত্মা গান্ধির হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ফাসির দিনকে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পালন করল হিন্দু মহাসভা। ফাঁসির ৭০ বছর পালন করা হল মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে দৌলতগঞ্জের হিন্দু মহাসভার অফিসে। নাথুরাম ও নারায়ণের ছবিতে মালা দিয়ে, ভজন গেয়ে এবং আরতি করে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পালিত হল এই দিন।

হিন্দু মহাসভার শীর্ষ কর্মকর্তা জয়বীর ভরদ্বাজ বলেন, “এমনটা প্রথমবার নয়, আমরা এর আগেও নথুরাম গডসে এবং নারায়ণ আপ্তের হত্যার দিনটিকে বলিদান দিবস হিসেবে পালন করেছি।” এই কর্মসূচির পরে, মহাসভার নেতারা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদেরকে মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের জন্য একটি দাবিপত্রও দেন। এই দাবিপত্রে চারটি দাবি রয়েছে। প্রথম দাবিটি হ’ল ট্রায়াল কোর্টের কাছে গডসের বয়ানকে স্কুলশিক্ষার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হোক, যাতে তরুণ প্রজন্ম গডসের বাস্তবিক জাতীয়তাবাদী ধারণা সম্পর্কে জানতে পারেন।

দ্বিতীয় দাবিটি হ’ল, যেমন পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুর জন্মদিবস শিশু দিবস হিসাবে পালন করা হয়, তেমনই দশম শিখ গুরু গোবিন্দ সিংহের দুই পুত্রের মৃত্যুর দিনকে বলি শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হোক। তৃতীয় দাবিটি হ’ল নাথুরাম গডেসের মূর্তি, যা ২০১৭ সালে মহাসভার অফিস থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বাজেয়াপ্ত করে তা ফেরত দেওয়া হোক। চতুর্থ দাবি, জেএনইউ ক্যাম্পাসে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি যারা ভেঙেছে তাঁদের দেশদ্রোহী হিসেবে অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করা হোক।

তবে এই সময় মহাসভার কার্যালয়ের বাইরে স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসনের লোক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁরা পদক্ষেপ করার পরিবর্তে পুরো বিষয়টার অপেক্ষা করেন, দেখেন এবং ফিরে যান।

মজার বিষয় হ’ল, দুই বছর আগে যখন বিজেপি ক্ষমতায় ছিল, মহাসভার কার্যকর্তারা গডসের মূর্তি স্থাপন করে কার্যালয়ের অভ্যন্তরে নাথুরাম গডসের মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তবে পুলিশ পরে সেই মূর্তি বাজেয়াপ্ত করে নেয়। গত ১১ মাস রাজ্যে কংগ্রেসে শাসন ক্ষমতায় রয়েছে, তবুও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ শুক্রবারের এই ঘটনায় কোনও পদক্ষেপ করেনি।